বিষখালীতে ২১ জেলেসহ দুটি অবৈধ ট্রলিং বোট আটক। ছবি : সংগৃহীতবরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে ২১ জেলেসহ দুটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় বোট দুটি থেকে ১৭টি বেহুন্দী জাল, ৪টি উইংস, ২টি ডেরিক ও ৪টি ট্রলডোর জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বিষখালী নদীর নীলিমা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড স্টেশন পাথরঘাটা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে নদীর ওই এলাকা থেকে দুটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। পরে বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭টি বেহুন্দী জাল, ৪টি উইংস, ২টি ডেরিক ও ৪টি ট্রলডোরসহ ২১ জন জেলেকে আটক করা হয়। আটক বোট দুটি পাথরঘাটার মাসুম কোম্পানির মালিকানাধীন এফবি তরিকুল ইসলাম-৩ ও এফবি তরিকুল ইসলাম-৭।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, এসব বোটে বিশেষ ধরনের জাল ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ করা হচ্ছিল।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক জানান, আর্টিসানাল বোট দিয়ে মাছ ধরা সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০-এর ২৮ ধারায় নিষিদ্ধ।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বেহুন্দী জালের মতো দেখতে আর্টিসানাল জাল দিয়ে উপকূলের অগভীর এলাকায় মাছ ধরা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি পোনা ও ডিমও ধরা পড়ছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে, ট্রলিং জাহাজের মালিক মো. মাসুম মিয়া দাবি করেন, মহামান্য হাইকোর্টের জুলাই মাসের একটি রিট পিটিশনের আদেশে আগামী ছয় মাস সাগরে ভাসান জাল ও বেহুন্দী জাল দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা বোট, ট্রলিং জাল, ট্রলিং সরঞ্জাম ও আটক জেলেদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা