প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ সভা। ছবি : সময়ের আলোপিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার কফিনে গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত এবং পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল। প্রধান বক্তা ছিলেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরদীদা খালেদ রবি।
সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ায়র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা।
এ সময় বক্তারা জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। এরা কখনোই মুক্তিযোদ্ধাদের মনে প্রাণে সহ্য করতে পারে না। স্বাধীনতা বিরোধী এই চক্র মানিক পশারীর কাফনে বাধা দিয়ে আবারও তার প্রমাণ দিলেন।
এ সময় বক্তারা, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবি জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান দরাণী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম দুলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহাবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম খান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান মানিক পশারী। পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে ২৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন দুপুর ১২ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর মরদেহ টুঙ্গিপাড়া থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। এরপর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধার সৃষ্টি করে স্থানীয় জামাতের নেতাকর্মীরা । শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
সময়ের আলো/আতা