প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
বড়ো গাছের গুড়ির বেশির ভাগ অংশ বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি : সংগৃহীতকোনো দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ডাল-পালা ছাঁটাইয়ের নাম করে গাছের অর্ধেকই কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
তবে কর্তৃপক্ষ জানান, পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে বন বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়েই গাছের ছোট ছোট ডাল-পালা কাটা হয়েছে। আর সেগুলো হাসপাতালে রান্নার কাজে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
সরেজমিন দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি নতুন এবং পুরাতন ভবনের সামনে থাকা তিনটি বড়ো আকৃতির কড়ই এবং একটি মেহগিনী গাছের অর্ধেক কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া পাশেই মসজিদের সামনের আরেকটি কড়ই গাছের বেশিরভাগ অংশই কাটা হয়েছে। তবে এসব কাটা ডাল বা বড়ো বড়ো গাছের গুড়ির বেশির ভাগ অংশ বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন স্বজন জানান, ডাল-পালা ছাঁটাই করার নাম করে এভাবে গাছের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এতে করে অক্সিজেনের অভাব হবে। এছাড়া অনেকে এই গাছের নিচে ছায়ায় বসে থাকলেও গাছ কাটার কারণে এখন আর সেটা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাবুল গাছ কাটতে শুরু করে। পরে তিনি জানতে পারেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে গাছ কেটে নিয়ে যেতে বলেছেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির কারণে আর গাছ কাটতে পারেনি।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাবুল জানান, তাকে কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাই তিনি দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক এনে কয়েকটি গাছের ডাল-পালা কেটেছেন। তবে গাছের কোন বড়ো অংশ ডাল কাটেননি। আর যেগুলো কেটেছেন তার মধ্যে কয়েকটি গাছের গুড়ি তিনি বাড়িতে নিয়ে গেছেন লাগড়ি করে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য।
দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিন জানান, নতুন এবং পুরাতন ভবনের ছাদ যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য বন বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়েই দুটি কড়ই গাছের ডাল-পালা কাটা হয়েছে। এখানে কোন গাছ কাটা হয়নি। আর যেগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো মূলত হাসপাতালে রোগীদের খাওয়ানোর জন্য রান্নার কাজে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন