প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। ছবি : সংগৃহীতদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিরাজগঞ্জের তাড়াশেও শীত কড়া নাড়ছে। এরই মধ্যে খেজুর গাছের পরিচর্যাসহ শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের তৎপরতা। এ বছর আগাম রস সংগ্রহে মাঠে নেমেছেন গাছিরা। সুস্বাদু এ রস সংগ্রহে তারা এখন খেজুর গাছ প্রস্তত করছেন। আবার দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে হাঁড়ি টানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায়, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে শত শত খেজুর গাছ রয়েছে। এসব খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, খেজুর গাছ একটি অত্যন্ত লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধার বা যেকোনো জায়গায় এ গাছ জন্মায়। খেজুর গাছ থেকে একদিকে যেমন সুস্বাদু রস, লালি ও গুড় পাওয়া যায় তেমনি মেলে প্রচুর জ্বালানি। অধিক হারে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে কৃষকরা বেশ লাভবান হবে।
গাছি শাহজাহান আলী বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কেউ এ কাজ করতে পারবেন না। বিশেষ করে রস জ্বাল দিয়ে লালি বা গুড় তৈরি করা খুবই কষ্টের। তবু সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে সবকিছু উপেক্ষা করে আমরা এ পেশা ধরে রেখেছি।
রাজশাহী থেকে আসা গাছি আলাল উদ্দিন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। প্রতি বছর এ গ্রামে আসি। দুই শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। পরে ঢিমাগুড়, ঝোলা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করি। খেজুর গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, কাকডাকা ভোর থেকে রস জ্বাল দিয়ে লালি ও গুড় তৈরি করতে হয়। বছরের চার মাস আমরা এ কাজ করি এবং এর আয় দিয়েই সারা বছর সংসারের ব্যয়ভার বহন করি।
উপজেলার শিলংদহ গ্রামের নাজিম উদ্দীন বলেন, প্রতি বছর রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে তাড়াশের বিভিন্ন এলাকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এই রস দিয়ে সুস্বাদু লালি গুড়, পাটালি গুড় তৈরি করা হয় যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও বাজারজাত করা হয়।
সময়ের আলো/আতা