টোকিওতে হ্যালোইন উৎসব

রফিক রাফি, টোকিও থেকে

আন্তর্জাতিক

জাপানের রাজধানী টোকিওতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব। ভয়ংকর সব মুখোশ, বিচিত্র পোশাক, রঙিন সাজসজ্জা আর উৎসবের

2026-11-01T05:31:22+00:00
2026-11-01T05:31:22+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
টোকিওতে হ্যালোইন উৎসব
রফিক রাফি, টোকিও থেকে
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ এএম 
টোকিওতে মুখোশ, বিচিত্র পোশাক, রঙিন সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকরা। ছবি : সময়ের আলো
জাপানের রাজধানী টোকিওতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব। ভয়ংকর সব মুখোশ, বিচিত্র পোশাক, রঙিন সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকরা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই উৎসব ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। কেউ সেজেছেন ভৌতিক চরিত্রে, কেউ জনপ্রিয় সিনেমা ও কার্টুনের চরিত্রে, আবার কেউ ঐতিহ্যবাহী জাপানি কসপ্লে পোশাকে অংশ নিচ্ছেন উৎসবের আয়োজনে। শনিবার শিবুয়া এলাকায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উদযাপিত হয়। পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে আসা এই উৎসব জাপানেও গত কয়েক দশকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে জাপানে হ্যালোইন উদযাপনের ধরন কিছুটা আলাদা। এখানে শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন বয়সি মানুষ এবং বিদেশি পর্যটকরা অংশ নেন। পোশাকের বৈচিত্র্য, ছবি তোলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ।
এবারের হ্যালোইন উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ৩১ অক্টোবর শনিবার হওয়ায় ছুটির দিনের সঙ্গে উৎসব মিলে গেছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পর্যটন এলাকা ও নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের সমাগম বেড়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র শিবুয়া : টোকিওর শিবুয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই হ্যালোইন উদযাপনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে শিবুয়া স্ক্র্যাম্বল ক্রসিং এলাকায় প্রতি বছর হাজারো মানুষ বিচিত্র পোশাকে জড়ো হন। এবারও ৩১ অক্টোবর সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। শনিবার হওয়ায় দিনের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যায়ও ভিড় বাড়তে থাকে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। 

স্থানীয় আকিবু সময়ের আলোকে জানান, অতিরিক্ত জনসমাগম, বিশৃঙ্খলা, রাস্তায় মদ্যপান ও আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জাপানের মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের কয়েকশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, শিবুয়া স্টেশনের আশপাশে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। বিখ্যাত স্ক্র্যাম্বল ক্রসিংয়ে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মাইকে নির্দেশনা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে তাদের বিশেষ কণ্ঠনির্দেশনার কারণে অনেকের কাছে তারা ‘ডিজে পুলিশ’ নামেও পরিচিত।


হ্যালোইন উৎসবে আসা প্রবাসী ফাইজ আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, শিবুয়া এলাকায় প্রকাশ্যে মদ্যপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে হ্যালোইন উপলক্ষে স্বেচ্ছায় মদ বিক্রি বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য উৎসবের আনন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
 
ইকেবুকুরোতে কসপ্লে উৎসবের আকর্ষণ : স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিবুয়ার বাইরে টোকিওর ইকেবুকুরো এলাকাতেও হ্যালোইন উৎসবের বড় আয়োজন করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ইকেবুকুরো হ্যালোইন কসপ্লে ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। জাপানের অন্যতম বড় কসপ্লে উৎসব হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনে বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র, অ্যানিমে, মাঙ্গা ও সিনেমার চরিত্রের আদলে পোশাক পরে অংশ নিচ্ছেন উৎসাহীরা।

উৎসবে রয়েছে কসপ্লে প্রদর্শনী, মঞ্চ অনুষ্ঠান, প্যারেড এবং ছবি তোলার বিশেষ আয়োজন। জাপানের তরুণ প্রজন্মের কাছে কসপ্লে সংস্কৃতি বেশ জনপ্রিয়। হ্যালোইন সেই আগ্রহ প্রকাশের একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। 

টোকিও টাওয়ারে বিশেষ আয়োজন :  হ্যালোইন উপলক্ষে টোকিওর অন্যতম দর্শনীয় স্থান টোকিও টাওয়ারেও বিশেষ অনুষ্ঠান। আয়োজন করা হয়। ৩১ অক্টোবর টাওয়ারটির প্রায় ৬০০ ধাপের বাইরের সিঁড়ি রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ট্রিক অর ট্রিট’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ হ্যালোইন স্টিকার উপহার দেওয়া হয়। 

এ ছাড়া টাওয়ারটিকে কমলা ও লালচে-বেগুনি আলোয় সাজানো হয়েছে। রাতের বেলায় ১৫০ মিটার উচ্চতার মেইন ডেকে বিশেষ প্রজেকশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে হ্যালোইন উৎসবের আবহ তৈরি করা হয়েছে। ফলে পর্যটকদের কাছে টোকিও টাওয়ারও হয়ে উঠেছে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। 

এ ছাড়াএবার টোকিওর উমিনোমোরি পার্কে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী হ্যালোইন আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা, ধাঁধা সমাধান, খাবারের স্টল এবং ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে। এ আয়োজনের প্রবেশমূল্য রাখা হয়নি। 

টোকিওর স্থানীয় বাসিন্দা  আকিবুতো সময়ের আলোকে বলেন, জাপানে হ্যালোইন এখন শুধু ভৌতিক পোশাক পরার উৎসব নয়; এটি বিনোদন, পর্যটন, ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও একটি উপলক্ষ। বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এই উৎসবে অংশ নিয়ে জাপানের নগরজীবন ও বিনোদন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র এবং পর্যটন স্থাপনাগুলোও বিশেষ সাজসজ্জা ও আয়োজনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

তবে উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সে বিষয়ে জাপানের প্রশাসন বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে টোকিওর হ্যালোইন উৎসবের এবারের চিত্রে যেমন রয়েছে রঙিন পোশাক, কসপ্লে, আলোকসজ্জা ও তরুণদের উচ্ছ্বাস, তেমনি রয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিশেষ উদ্যোগ।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   টোকিও  হ্যালোইন  উৎসব 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: