প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। রোববার দুপুরে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ডের মাধ্যমে কাজ চলবে—শ্রমিকদের তা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা সড়ক ছাড়েননি। পুলিশের ধারণা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলেও দাবি করেন তিনি।
আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, সড়ক পরিষ্কারের কাজে তখন পুলিশ বেশি মনোযোগী ছিল। কারও ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিদুল ইসলাম আরও জানান, বর্তমানে মিরপুর এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই অঞ্চলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।
সময়ের আলো/জেডি