সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের মরণফাঁদ বটতলি কালভার্ট

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় বটতলি মোড়ের শত বছরের পুরোনো কালভার্টটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই

2026-11-01T18:44:19+00:00
2026-11-01T18:44:19+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের মরণফাঁদ বটতলি কালভার্ট
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম 
সান্তাহার শহরের বটতলি মোড়ে অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট। ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় বটতলি মোড়ের শত বছরের পুরোনো কালভার্টটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্ট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। যেকোনো সময় এটি ভেঙে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দ্রুত কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে সান্তাহার জংশন শহরের সঙ্গে নওগাঁ জেলা শহরের যোগাযোগের জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কটির সান্তাহার অংশের বটতলি মোড় ও পশ্চিম ঢাকা রোড এলাকায় দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ভেঙে পড়ে। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। ওই সময় সান্তাহার নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বটতলি মোড়ের কালভার্টটিও ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রথম পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৬৭-৬৮ সালে সড়কটি আধুনিকায়ন করা হয়। একই সময়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগ কালভার্ট ভেঙে প্রশস্ত ও নতুন করে নির্মাণ করা হলেও বটতলি মোড়ের কালভার্টটি আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বটতলি মোড়ের কালভার্টটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

সান্তাহার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ খান বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে হওয়ায় পৌরসভার পক্ষে তা করা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

সান্তাহার শহরের অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা কালভার্ট দিয়ে অসংখ্য যানবাহন নওগাঁর দিকে চলাচল করে। ভারী যানবাহনও এর ওপর দিয়ে যায়। কালভার্টটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় এটি ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি চিকিৎসক হামিদুর রহমান বলেন, কালভার্টটির ঝুঁকির বিষয়টি আগে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি মেয়াদোত্তীর্ণ কালভার্ট। যেকোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সময়ে নির্মিত পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। তাই বটতলি মোড়ের কালভার্টটিও দ্রুত ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেদুল হক বলেন, কালভার্টটি পরিদর্শনের জন্য তাদের দফতর থেকে দ্রুত লোক পাঠানো হবে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, কালভার্টটির বিষয়ে জানার পর দ্রুত নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   সান্তাহার-নওগাঁ সড়ক  মরণফাঁদ  বটতলি কালভার্ট  বগুড়া  আদমদীঘি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: