চ্যাম্পিয়নশিপে ছয়টি পদক অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয় শিক্ষার্থী। ছবি : সংগৃহীতনেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাওরাহা ইন্টারন্যাশনাল ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে ছয়টি পদক অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয় শিক্ষার্থী। এর মধ্যে দুটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও তিনটি তাম্রপদক।
স্বর্ণপদকজয়ী মো. শাহীন আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায়ও স্বর্ণপদক জিতেছেন। আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো ক্লাবের সভাপতি।
অন্য স্বর্ণপদকজয়ী রিদওয়ান তাসকিন রাতুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি তায়কোয়ানডো ফেস্টিভ্যালে রৌপ্যপদক অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর এআরসি গ্লোবাল তায়কোয়ানডো অ্যাকাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক। তার দক্ষিণ কোরিয়ার কুক্কিওয়ান ও জিদোকওয়ান স্বীকৃত দ্বিতীয় ডান ব্ল্যাক বেল্ট রয়েছে।
রৌপ্যপদক অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাঈম আলী। তিনি ৩৩ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মাস্টার ক্যাটাগরির ব্যক্তিগত পুমসে বিভাগে অংশ নিয়ে এ পদক অর্জন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদকজয়ী নাঈম বর্তমানে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি তিনি তায়কোয়ানডো স্পোর্টস অ্যাকাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাম্রপদক অর্জন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাবাহ কানেতা তারিক, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কামরুজ্জামান এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মরিয়ম।
সাবাহ কানেতা তারিক প্রথম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এ ছাড়া ২২তম সিনিয়র/জুনিয়র জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় রৌপ্যপদক এবং আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্রপদক অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো ক্লাবের সহসভাপতি।
কামরুজ্জামান প্রথম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এ ছাড়া ২২তম সিনিয়র/জুনিয়র জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় তাম্রপদক এবং আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতায় রৌপ্য ও তাম্রপদক অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রচার সম্পাদক।
মরিয়ম জাতীয় পর্যায়ে ব্রোঞ্জ ও রৌপ্যপদক এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আন্তঃবিভাগীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ক্লাবটির ক্রীড়া সম্পাদক।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দলের কোচ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক ও তায়কোয়ানডো কোচ কামরুজ্জামান চঞ্চল। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো ক্লাবের তায়কোয়ানডো বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা। তার দক্ষিণ কোরিয়ার কুক্কিওয়ান স্বীকৃত পঞ্চম ডান ব্ল্যাক বেল্ট এবং জিদোকওয়ান স্বীকৃত ষষ্ঠ ডান ব্ল্যাক বেল্ট এবং আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডো মাস্টার। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো জাতীয় দলের সাবেক কোচ।
উল্লেখ্য, ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নেপালের চিতওয়ান জেলার সাওরাহায় প্রথম সাওরাহা ইন্টারন্যাশনাল ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপসহ ৯টি দেশের প্রায় ৫০০ খেলোয়াড়েরা কিয়োরুগি (ফাইট) ও পুমসে (কৌশল প্রদর্শনী) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সময়ের আলো/জোই