প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম আপডেট: ০২.১১.২০২৬ ৭:১৯ পিএম
জলঢোঁড়া সাপের গায়ের রং জলপাই-বাদামি বা কালচে ছোপযুক্ত হলেও এই সাপটির পুরো শরীর হলদেটে। ছবি : সময়ের আলো প্রকৃতির এক অনন্য ও বিরল নিদর্শনের দেখা মিলল হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে। জেলার বোদা উপজেলায় উদ্ধার করা হয়েছে বিরল বৈশিষ্ট্যের একটি ‘অ্যালবিনো’ জলঢোঁড়া সাপ। সাধারণ জলঢোঁড়া সাপের গায়ের রং জলপাই-বাদামি বা কালচে ছোপযুক্ত হলেও এই সাপটির পুরো শরীর হলদেটে। জন্মগত জিনগত ত্রুটি বা ‘অ্যালবিনিজম’-এর কারণে সাপটির শরীরে এমন ব্যতিক্রমী বর্ণ তৈরি হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের হলদিয়াপুকুর গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিন্ন রঙের এই সাপটি দেখে আতঙ্কিত না হয়ে খবর দেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ কে। পরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিরলতা
উদ্ধার হওয়া সাপটি স্থানীয়ভাবে জলঢোঁড়া এবং ইংরেজিতে ‘চেকার্ড কিলব্যাক’ (Checkered Keelback) নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Fowlea piscator। গবেষকদের মতে, এটি একটি অবিষধর জলচর সাপ।
প্রাণিবিদরা বলছেন, ‘অ্যালবিনিজম’ কোনো রোগ নয়, বরং একটি জিনগত অবস্থা যেখানে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের অনুপস্থিতির কারণে শরীরের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা বা হলদে হয়ে যায়। বন্য পরিবেশে এ ধরনের সাপের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এদের উজ্জ্বল গায়ের রঙের কারণে এরা সহজেই শিকারি প্রাণীর নজরে পড়ে যায়। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের সাপের দেখা পাওয়া অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য।
উদ্ধারকারী সহিদুল ইসলাম জানান, সাপটি উদ্ধারের সময় এর শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত পাওয়া গেছে। বর্তমানে আমাদের টিমের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আমরা এর ক্ষত নিরাময়ের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও আচরণের ওপর নজর রাখছি। বিশেষ করে এর খোলস পরিবর্তনের পর গায়ের রঙের কোনো পরিবর্তন হয় কি না, তা আমাদের গবেষণার একটি অংশ। পুরোপুরি সুস্থ ও সবল হওয়ার পর সাপটিকে বন বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় উপযুক্ত কোনো জলাশয়ে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঞ্চগড়ের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে এ ধরনের বিরল প্রাণীর উপস্থিতি এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিকেই নির্দেশ করে।
তারা লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখলে সেগুলোকে হত্যা না করে উদ্ধারকারীদের জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে বিরল এই সাদা জলঢোঁড়া সাপটিকে একনজর দেখতে অনেক কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। বন্যপ্রাণীর প্রতি সাধারণ মানুষের এই সচেতনতা ও মমত্ববোধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবেশবাদীরা।
সময়ের আলো/এনএন