প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
মৃতদের আত্মার চিরশান্তি কামনায় ‘অল সোলস ডে’। ছবি : সময়ের আলোকবরস্থানের সারি সারি সমাধির ওপর জ্বলছে শত শত মোমবাতি। চারদিকে আগরবাতির সুগন্ধ, কোথাও সমাধির ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নানা রঙের তাজা ফুলের পাপড়ি। প্রিয়জনের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে মৃত স্বজনদের আত্মার চিরশান্তি কামনায় প্রার্থনা করছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
এমনই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে মৃত স্বজনদের আত্মার চিরশান্তি কামনা ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নাটোরের বড়াইগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে পালিত হয় ‘অল সোলস ডে’ বা ‘মৃতলোকের পর্ব’।
সোমবার (২ নভেম্বর) বড়াইগ্রাম উপজেলার ছয়টি ধর্মপল্লী ছাড়াও নাটোর সদর, লালপুর, বাগাতিপাড়া ও সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছর ২ নভেম্বর মৃত স্বজনদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। তাদের কাছে দিনটি ‘আলোকময় প্রার্থনা’ হিসেবেও পরিচিত।
দিবসটি উপলক্ষে জেলার সর্ববৃহৎ খ্রিস্টান ধর্মপল্লী বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় অবস্থিত লুর্দের রাণী মা মারীয়া ক্যাথলিক কবরস্থানে বিশেষ খ্রিস্টযাগের আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত এ খ্রিস্টযাগে সহস্রাধিক খ্রিস্টধর্মাবলম্বী অংশ নিয়ে মৃত স্বজনদের আত্মার চিরশান্তি কামনায় সম্মিলিতভাবে প্রার্থনা করেন।
খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরোহিত্য ও মূল প্রার্থনা পরিচালনা করেন প্রধান পাল-পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা। তাকে সহযোগিতা করেন ফাদার আলবার্ট বকুল ক্রুশ।
খ্রিস্টযাগ শেষে উপস্থিত যাজকগণ কবরগুলো আশীর্বাদ করেন। পরে সন্ধ্যায় প্রিয়জনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাধিগুলোতে শত শত মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো কবরস্থান।
স্বজনদের স্মরণ, প্রার্থনা ও ভালোবাসার এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের অল সোলস ডে উদযাপন।
সময়ের আলো/এমআই/আতা