মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় কারাগারে ২৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার

2026-11-02T19:35:25+00:00
2026-11-02T19:35:25+00:00
 
  সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
আইন-আদালত
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় কারাগারে ২৬ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা পৃথক তিন মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও কালাম উদ্দিনের পৃথক আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই আবু বক্কর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিন মামলার মধ্যে পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা অপর মামলায় ৭ জন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন—মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৯), মো. মহিম মোল্লা (১৯), জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৯), মো. নাহিদ হাসান (১৮), মাহবুবুর রহমান জুয়েল (৩৮), শামীম (২৩), মো. সুমন গাজী (২৮), মো. ইউসুফ আলী (২২), রাজীব চন্দ্র দাশ (২৮), মো. জামাল সরকার (৩৩), মো. তারেক হোসেন (২৪), মো. ইমরান হোসেন (৩০), মো. আবুল কাসেম (২২), মো. মহীন উদ্দিন (২৩), কাওসার আহমেদ (২২), মো. রফিক গাজী (২১), মো. ইসমাইল (২০), মো. সাইফুল ইসলাম (২৬), মো. সজীব শেখ (২০) ও মো. মোর্শেদ আলম (২৫)।


পল্লবী থানার পৃথক দুই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর পল্লবীর মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ ও পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।

মিরপুর মডেল থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি জানিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিরপুর-১০ এলাকায় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।

আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপতারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   মিরপুর  শ্রমিক  আন্দোলন  মামলা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: