প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের দায় নির্ধারণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থার দুর্বলতায় সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, অনিয়ম দূর করা এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ার কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এ ধরনের ত্রুটির পেছনে কারিগরি, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা ব্যবস্থাপনাগত কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের দায় কার ওপর বর্তায়, তা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা অনাদায়ি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রমাণাদিসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি