সালমান এফ রহমান। ছবি : সংগৃহীত ঋণ সুবিধা নিয়ে রফতানি বিলের নামে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তার ছেলেসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুমোদিত তিনটি মামলার মধ্যে প্রথম মামলায় ২২, দ্বিতীয় মামলায় ২২ এবং তৃতীয় মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা গ্রহণ, ভুয়া রফতানি ও আমদানি লেনদেন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনটি ঘটনায় মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে ও বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এ এস এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, এইচ শামসুদ্দোহা, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগে সালমান এফ রহমান ছাড়াও বেক্সিমকো লিমিটেডের একাধিক পরিচালক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিচালক এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। প্রথম ঘটনায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের কথিত গ্রাহক স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও প্রদান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এসব সুবিধা দেওয়া হয়। পরে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি- রফতানি দেখিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৫৮২ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার দেশে না এনে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।
অনুমোদিত দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ইডিএফসহ ঋণ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আমদানি- রফতানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। প্রকৃত পণ্য আমদানি না করেই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় ঘটনায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্য আমদানি- রফতানির আড়ালে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ। এ ঘটনায় আত্মসাৎ ও পাচার করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
তিনটি ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, পরস্পর যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি নিয়মিত মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি