সংগৃহীত ছবিখুলনার রূপসা উপজেলায় আঠারোবেকি নদীর চর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত দুজনের নাম মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা অপরাধজগতের আলোচিত সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়ে তোলা ‘বি-কোম্পানি’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় নদীর চর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নগরী ও জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে নদীর চরে প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই জায়গায় আরেকটি মরদেহ চোখে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহত মেহেদী হাসান রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। একসময় তিনি জেলখানা ঘাটে মাঝির কাজ করতেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বলছে, মেহেদী ও রেজাউল দুজনই ‘বি-কোম্পানি’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তার বাবা আব্দুল্লাহ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেহেদী আলাদা থাকতেন। ছেলের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। এর আগের রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
গত ২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় গুলির তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। একই সময়ে খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
এর আগে ২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় কলেজশিক্ষক ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস।
এ ছাড়া ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান এক গৃহবধূ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধের মতো বিষয় প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সময়ের আলো/জোই