১৬ বছর পর জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ, সংস্কারে রেলওয়ের চিঠি

সারাদেশ

জনবল সংকটে প্রায় ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়

2026-11-03T10:58:49+00:00
2026-11-03T10:58:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
১৬ বছর পর জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ, সংস্কারে রেলওয়ের চিঠি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম 
রেলওয়ে স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম চলছে। ছবি : সময়ের আলো
জনবল সংকটে প্রায় ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় যাত্রী ও পর্যটকেরা। এবার স্টেশনটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগ। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের পাশাপাশি অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সচল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেশনটিতে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা সচল করা প্রয়োজন।

পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের অভাবে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জামালগঞ্জ স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পাকশী বিভাগের ৫৬টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এ পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যাত্রী ওঠানামার প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্টেশনটির ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো হচ্ছে না। এর পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মবিহীন ২ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো হয়। ফলে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত স্থানে নামতে না পেরে তাঁদের পাশের স্টেশনে গিয়ে নামতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটির অবস্থান ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছাকাছি। ফলে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও স্টেশনটির ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া সোনালি মুরগি উৎপাদন ও পোলট্রি শিল্পের জন্যও জামালগঞ্জ পরিচিত। এ শিল্পে এলাকাটির অবস্থান দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বলে স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়।

স্টেশন বন্ধের পেছনে জনবল সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় রেলওয়ের কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক স্টেশন মাস্টার বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। স্টেশনের কাজের পাশাপাশি তাঁকে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বও সামলাতে হয়।


তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক থাকার পরও রেলওয়েতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হচ্ছে না কেন, তা বোধগম্য নয়। জনবল সংকটের কারণে জামালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো চালুর পাশাপাশি কর্মরতদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো প্রয়োজন।

রেলওয়ের চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের লুপ লাইন ফিটকরণ, সিগন্যালিং সরঞ্জাম কার্যকর করা এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস সচল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, স্টেশনটি বন্ধ থাকায় ব্লক সেকশনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাচ্ছে। এতে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে। জামালগঞ্জ স্টেশন পুনরায় চালু হলে ট্রেনের ক্রসিং পরিচালনাসহ রেলওয়ের সামগ্রিক অপারেটিং কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পর স্টেশনটি চালুর উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সচল করার কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হাসিবুল হাসান বলেন, স্টেশনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জারি করা চিঠি তিনি দেখেছেন। এতে স্টেশন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে যাত্রীরা মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন  জয়পুরহাট  বাংলাদেশ রেলওয়ে  পাকশী বিভাগ  রেলওয়ে স্টেশন  জনবল সংকট  পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার  ট্রেনযাত্রী  রেল যোগাযোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: