প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
সেচের পানির অভাবে ৩ বিঘা জমির ধান নষ্ট। ছবি : সময়ের আলোআর কয়েক দিন পরই ধান কাটার কথা। কিন্তু সেচের পানির অভাবে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক কৃষকের তিন বিঘা জমির ধানখেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অন্তত ২০ বিঘা জমির ধান। সময়মতো পানি না পাওয়ার জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের সেচব্যবস্থাকে দায়ী করছেন কৃষকেরা। এ পরিস্থিতিতে আগামী মৌসুমের আগে মাঠে একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লোচনপাড়া ফসলি মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ অক্টোবর উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনওর কাছে অগভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় কৃষকেরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লোচনপাড়া ফসলি মাঠে বিএমডিএর একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এই নলকূপ থেকে সেচের পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, নলকূপের অপারেটর নিয়মিত ও যথাসময়ে সেচের ব্যবস্থা করেন না। পাশাপাশি মাঠের জমিগুলো আশপাশের জমির তুলনায় কিছুটা উঁচু হওয়ায় সেচের পানি ঠিকমতো পৌঁছায় না। ফলে ধান চাষে প্রতিবছরই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেচের অভাবে কৃষক ইউনুস আলীর তিন বিঘা জমির ধানগাছ শুকিয়ে পুড়ে গেছে। আশপাশের কয়েকটি জমিতেও ধানগাছ শুকিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে এসব জমিতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
মাঠের ১০ থেকে ১২ জন কৃষক জানান, কয়েক বছর ধরেই তারা সেচসংকটে ভুগছেন। সময়মতো পানি না পাওয়ায় ধানের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আগামী মৌসুমের আগে অগভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে মাঠের ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষক মোহসীন আলী বলেন, ঠিকমতো সেচের পানি দেওয়া হয় না। তাদের জমিগুলোও কিছুটা উঁচু হওয়ায় পানি ঠিকমতো পৌঁছায় না। এতে ধানখেতের ক্ষতি হচ্ছে।
কৃষক ইউনুস আলী বলেন, সেচের অভাবে তার তিন বিঘা জমির ধানখেত নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের আরও ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। আগামী মৌসুমের আগেই মাঠে একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান এই কৃষক।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে তদন্তের জন্য প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও আক্কেলপুরের ইউএনও আশিক-উর রহমান বলেন, কয়েকজন কৃষক এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মাঠে অগভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই