প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
সংগৃহীত ছবিযশোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মামলার আসামি মামুনুর রশিদের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হন মামুনুর রশিদ। ওই দিনই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
মামুনুর রশিদ যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মামুনুর রশিদের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট থেকে নয় বছর আগে সদর উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ঝিকরগাছা উপজেলার আরেক তরুণীকে বিয়ে করলেও প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় সংসারও ভেঙে যায়। দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তিনি মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার আগেও বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুনুর রশিদ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি। দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফেরেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মাকে মাটিতে ফেলে গলায় কোপ দেন তিনি। এতে আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মামুনুর রশিদ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলো।
সময়ের আলো/জোই