প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম
পাঁচ একর আয়তনের এই জায়গার অনেকটাই পরিণত হয়েছে গোচারণভূমিতে। ছবি : সময়ের আলোময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জমি অধিগ্রহণের ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি বিসিক শিল্পনগরীর। পাঁচ একর আয়তনের এই জায়গার অনেকটাই পরিণত হয়েছে গোচারণভূমিতে। বাকি অংশে স্থানীয়রা কলা ও সবজি চাষ করছেন। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও কোনো গেট না থাকায় পুরো এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই সুযোগে মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে বিসিকের অব্যবহৃত এই জায়গা। উৎপাদনশীল খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় সেই সুযোগ কাজে আসছে না।
ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মুক্তাগাছার সত্রাশিয়ায় ১৯৯১ সালে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি । সরেজমিনে দেখা গেছে, গবাদিপশুর অবাধ বিচরণের পাশাপাশি বেশকিছু এলাকা বেদখল হয়ে চাষ করা হচ্ছে সবজি এবং কলা। সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হলেও ওপরে কাঁটাতার না থাকায় এবং কোনো গেট বা ফটক নির্মাণ না করায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যার জন্য প্রতিদিনই এখানে বখাটে ও মাদকেসেবীদের আড্ডা চলে।
ময়মনসিংহ বিসিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,১৯৯১ সালে পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণে খরচ হয়েছিল ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ২৭ লাখ টাকা খরচ করে মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলেও আর কোনো উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্লটের আকার চিহ্নিত করা হয়নি। রাস্তা বা ড্রেন নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি। বাঁশের খুঁটিতে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল সেটিও গায়েব হয়ে গেছে। বিসিকের হিসাবে সব মিলিয়ে এখানে ৩৮টি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আঞ্চলিক মহসড়কে পাশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ থাকা সত্ত্বেও বিসিক শিল্পনগরীতে কোনপ্রকার শিল্পায়ন না হওয়ায় তৈরি হচ্ছে না কর্মসংস্থানের। এখানে কলকারখানা গড়ে উঠলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবাই উপকৃত হবার পাশাপাশি জীবনমানের উন্নয়ন ঘটত। বেকারত্ব দূর হবার পাশাপাশি আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারতেন। সেই সাথে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ স্বাবলম্বী হতেন এবং এলাকার চেহারায় ইতিবাচকভাবে আমূল পরিবর্তন ঘটত বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বিসিকের জন্য নির্ধারিত এই স্থান থেকে জামালপুরের কামালপুর, শেরপুরের নাকুগাঁও এবং ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া স্থলবন্দর কাছাকাছি হওয়ায় রফতানিমুখী শিল্পেও ব্যাপক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সুযোগটিকে কাজে না লাগাতে পারা দুঃখজনক বলছেন জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় বাজারেও সড়ক যোগাযোগ ভালো থাকায় এখান থেকে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহীসহ অন্যান্য বিভাগেও পণ্য সরবরাহের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দ্রুত এখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি মাঝারি ধরনের শিল্প কলকারখানা স্থাপন করা গেলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তো, বলছেন স্থানীয়রা।
শিল্পায়নের প্রসারে অবিলম্বে নারী উদ্যোক্তাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্লট আকারে জমি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি মনসুর আলম চন্দন। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিসিক কর্তৃপক্ষ কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এখানে শিল্পায়ন হলে আর্থিক অগ্রগতির পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় লোকজনের জীবনমানে ব্যাপক উন্নতি সম্ভব হবে।
বিসিক ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক বিজয় কুমার দত্ত জানান, মুক্তাগাছার এই জমিটিতে ভূমি উন্নয়ন এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। শিগ্গিরই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা নির্মাণসহ অন্যান্য ইউটিলিটি স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে। সম্প্রতি ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সম্প্রসারণের ফলে সড়ক ও জনপথ প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করায় নতুন করে প্লটের লেআউট সংশোধন করা হয়েছে। সবকিছু শেষ করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সময়ের আলো/এনএন