প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ৪:৫২ পিএম
সরকারি দফতরের ভেতরে এ ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি : সময়ের আলো কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালকের কার্যালয় যেন পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে। অফিসের কক্ষগুলোতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দাফতরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রান্না ও খাবার পরিবেশনের নানা উপকরণ। এমনকি রয়েছে খাবার টেবিল এবং বিশ্রামের জন্য বিছানাও। এ নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন কক্ষে অফিসের প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র ও দাফতরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, কারি কুকার, থালা-বাসনসহ রান্না ও খাবারদাবারের নানা সামগ্রী রাখা হয়েছে। কোথাও খাবার তৈরির সরঞ্জাম, আবার কোথাও খাওয়ার জন্য আধুনিক টেবিল ও চেয়ার রয়েছে। এমনকি খাবার শেষে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিছানার ব্যবস্থাও চোখে পড়ে।
একটি সরকারি দফতরের ভেতরে এ ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কার্যালয়ের কক্ষগুলো কী প্রয়োজনে এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব সরঞ্জাম কার এবং সরকারি অফিসের জায়গায় এগুলো রাখার অনুমতি কে দিয়েছেন—এমন প্রশ্নও তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা।
সরকারি অফিস মূলত জনগণকে সেবা প্রদান এবং দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান। সেখানে ব্যক্তিগত আবাসিক ব্যবহারের মতো পরিবেশ তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই দাফতরিক শৃঙ্খলা, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ ও আসবাবপত্র জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। তাই এসব স্থানের ব্যবহার অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান ও দাফতরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা তেমন না, তবে মাঝে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের এমন পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সময়ের আলো/এনএন