বাঁশখালীতে অবৈধ দখলদারদের সংঘবদ্ধ হামলায় আহত বন বিভাগের কর্মীরা। ছবি : সময়ের আলো সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে দখলদারদের সংঘবদ্ধ হামলায় বন বিভাগের পাঁচ কর্মী ও পুলিশের কনস্টেবলসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার করলাশিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী ইকোপার্ক-সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে পাকা ও আধা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সরকারি বনভূমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছিল চক্রটি। সম্প্রতি বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি বনভূমি দখল করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগে মো. নজরুল ইসলাম কালু নামে ব্যক্তির স্থাপনা উচ্ছেদে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. লেয়াকত আলী ও মো. নজরুল ইসলাম কালুর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা, দা-কিরিচ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বনকর্মী ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অভিযান বাধাগ্রস্ত ও দলটিকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। এতে বন বিভাগের পাঁচ কর্মী ও পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হন।
আহত বনকর্মীরা হলেন— ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও শামসুল আলম (৪৫)। আহত পুলিশ কনস্টেবলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ইসরাঈল হক বলেন, সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আমাদের টিম ও পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এদিকে, সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বনভূমি দখল ও সরকারি কাজে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন