প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ পিএম
বরিশালের আগৈলঝাড়া বসতঘরের ভেতরে ভুয়া দুটি ‘অলৌকিক কবর’। ছবি : সময়ের আলোবসতঘরের ভেতরে ভুয়া দুটি ‘অলৌকিক কবর’ তৈরি করে ঝাড়ফুঁক ও প্রতারণার অভিযোগে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় এক যুবকের স্বীকারোক্তির পর তার নিজ হাতেই কবর দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভুয়া কবর ঘিরে অপচিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল এবং আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে দুটি কবর দেখতে পান। এ সময় তারা বাড়ির বাসিন্দা সজীব বেপারী ও তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সজীব বেপারী নিজেই প্রশাসনের কাছে কবর দুটি বানিয়ে মিথ্যা প্রচারের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সজীব নিজেই কোদাল দিয়ে কবর দুটি কুপিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। তবে কী কারণে তিনি এই কবর দুটি বানিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর বা ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। এ ঘটনায় সজীব বেপারী ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না মর্মে উপজেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী গত ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসতেন। তার কাছে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করতেন এবং প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।
হঠাৎ করেই গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় একটি এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে আরেকটি—এভাবে মোট দুটি কবর ‘গায়েবিভাবে’ ঘরের মেঝেতে জেগে উঠেছে বলে সজীবের পরিবার এলাকায় প্রচার শুরু করে। ঘরের মধ্যে জেগে ওঠা কবর দুটির একটিকে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী এবং অন্যটিকে খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর কবর বলে দাবি করেন সজীব। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা কবরগুলো দেখতে ভিড় করেন এবং সজীবের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। সাধারণ মানুষ যেন প্রতারণার শিকার না হয়, সে জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে নিজেই কবর বানানোর কথা অকপটে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার বানানো কবর সে নিজেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না মর্মে সজীব ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা