ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারেন কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট—কারও জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে

2026-11-03T23:32:27+00:00
2026-11-03T23:32:27+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারেন কে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলে গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট—কারও জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দেশটিতে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য এখন দুই শিবিরকেই এমন কিছু দলের সমর্থন নিতে হতে পারে, নির্বাচনি প্রচারের সময় যাদের সঙ্গে জোট না করার ঘোষণা দিয়েছিল তারা। আনাদোলু ও আলজাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, জোট সরকার গঠন কিংবা বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার চালানোর জন্য ইসরায়েলি দলগুলোকে আগামী কয়েক সপ্তাহ কঠিন রাজনৈতিক দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে।

লন্ডনের কিংস কলেজের জ্যেষ্ঠ টিচিং ফেলো ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যান আনাদোলুকে বলেন, ‘গাণিতিক হিসেবে এই মুহূর্তে নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জোট সরকার গঠন করা নেতানিয়াহুর পক্ষে সম্ভব নয়।’

কোনো প্রমাণ ছাড়াই আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। তবে রোববার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ জানিয়েছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহের সত্যতা পাওয়া গেলেও নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল বহাল থাকবে।

ব্রেগম্যানের ভাষ্য, ‘নেতানিয়াহু যা করছেন তা তার চিরচেনা কৌশল। নির্বাচনে ভালো ফল করা এবং বিরোধীদের জোট গঠনে সহায়তা করতে সক্ষম আরবদের বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলে তিনি আসলে অপর পক্ষকে জোট গঠন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন।’

নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইসহাক হারজোগের কাছে জমা দিতে হবে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেট সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ১১ নভেম্বরের মধ্যে কোনো একজন নেসেট সদস্যকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রেসিডেন্ট। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।

প্রেসিডেন্ট হারজোগ প্রথমে কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ দৌড়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথের খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কয়েকটি আরব দল আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনের দৌড়ে নেতানিয়াহুর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন আইজেনকোট।

আরেকটি নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক নেতাদের দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ‘সৃজনশীল সমাধান’ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।

গাদি আইজেনকোট তার বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের ১৯টি আসন যুক্ত করে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। তবে এ জন্য তাঁকে বড় ধরনের রাজনৈতিক আপস করতে হবে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী জোটের চারটি প্রধান দলের মধ্যে তিনটি—ইয়াশার, বিয়াখাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু—নির্বাচনি প্রচারের সময় আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কেবল দ্য ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান প্রকাশ্যে এমন সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদোর লিবারম্যান সপ্তাহান্তে আবারও বলেছেন, রাআম বা জয়েন্ট লিস্টের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারে তাঁর দল যোগ দেবে না। তাঁর দলের সাতজন আইনপ্রণেতাকে বাদ দিলে বাকি বিরোধী ও আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬০টিতে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে একটি কম।

তবে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক মনে করেন, বিরোধী নেতারা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। শুক্রবার ফ্রান্স ২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এমন পরিস্থিতিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই মানসুর আব্বাসকে আমন্ত্রণ জানাতেন এবং তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ দিয়ে দিতেন।

রাআম দলের নেতা মানসুর আব্বাস এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইজেনকোটের শর্তগুলো তাঁদের দলের জন্য কোনো বাধা হবে না। তাঁরা সরকারে যোগ দিতেও প্রস্তুত। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমাদ তিবি জানিয়েছেন, তাঁর দল জোটে যোগ না দিলেও বাইরে থেকে এমন সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

দলটির আরেক নেতা ইউসেফ জাবারিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তাঁর দল প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের মাধ্যমেই পরিবর্তন আসে, যা হতে হবে প্রকৃত ও সমান অংশীদারিত্ব।’

ইসরায়েলি নাগরিক সমাজ সংগঠন জাজিমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রালুকা গানিয়া আলজাজিরাকে বলেন, বিরোধী জোট ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনই ‘ইসরায়েলের গণতন্ত্রের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ’।

বিশ্লেষক ব্রেগম্যানও মনে করেন, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ আরব জনগোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা ‘চিরকাল চলতে পারে না’। আগামী ১০ নভেম্বর নেসেটের অধিবেশনে লিকুদ পার্টির স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরোধী ও আরব দলগুলোর সহযোগিতার প্রথম পরীক্ষা হতে পারে।

প্রথম মনোনীত প্রার্থী নির্ধারিত ৪২ দিনের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট হারজোগ অন্য কোনো নেসেট সদস্যকে ২৮ দিন সময় দিয়ে একই সুযোগ দিতে পারেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেটের অন্তত ৬১ জন সদস্য একত্র হয়ে তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে মনোনীত করার অনুরোধ জানাতে পারেন।

সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা না কাটলে নেসেট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসরায়েলি ভোটারদের জন্য এমন পরিস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফলে জোট গঠনের প্রক্রিয়া যত দীর্ঘায়িত হবে, পরবর্তী সরকারে জায়গা না পেলেও ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা এই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ততই বাড়বে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   ইসরায়েল  পরবর্তী সরকার 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: