ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সংগৃহীত ছবি বিদেশি সামরিক উপস্থিতিমুক্ত এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ কথা জানিয়েছেন। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায়ও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে একটি নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের লক্ষ্য।
এর আগে সোমবার দোহাভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় দেশ তিনটির সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়ে চারটি দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
আরাঘচি আরও জানান, বন্ধুপ্রতিম উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থাপনা ইরানের লক্ষ্যবস্তু হবে বলে জানান।
নতুন করে সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ এবং ওমান ও সৌদি আরবের অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাবের রূপরেখাও তুলে ধরেন আরাঘচি। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তেহরানের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে। এর পরদিনই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি খুলে দেওয়া হবে।
আরাঘচি বলেন, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের পর্যায়ে কমিয়ে আনা।
তিনি বলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার দিনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।
আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের এক দফা পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে কাতার, তুরস্ক কিংবা অন্য কোনো স্থানে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে যে খবর রয়েছে, তা নাকচ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনাকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ যেকোনো চুক্তির বিষয় থেকে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করছে। পরমাণু ইস্যুতে দেওয়া প্রস্তাবগুলো এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ