প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি ইসরায়েলের বিরোধী জোটের নেতারা মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার পর এই প্রথম একসঙ্গে আলোচনায় বসছেন তারা। এরই মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহের হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর বিরোধী নেতাদের এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। আইজেনকোটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। সেখানে জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে।
নির্বাচনে আইজেনকোটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে তাঁর দল লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তাঁরই দেওয়া উচিত।
লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই।’
আরব-প্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, দলগুলো ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে’। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন আরব-ইসরায়েলি দলগুলোর নেতারা।
যদিও তাঁরা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। রাআম পার্টির নেতা ইসরায়েলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এ সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার নেতারা তাদের অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, তারা এমন একটি সরকারের পতন ঘটাতে চান, যেটিকে তারা ‘বর্ণবাদী’ বলে মনে করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ