এলপিজির দামে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনতে সবচেয়ে বেশি খরচ এখন বাংলাদেশে। এর সঙ্গে নতুন করে দাম বাড়ায়

2026-11-04T02:36:41+00:00
2026-11-04T02:36:41+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
এলপিজির দামে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনতে সবচেয়ে বেশি খরচ এখন বাংলাদেশে। এর সঙ্গে নতুন করে দাম বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দেশে রান্নার গ্যাস কিনতে ভোক্তাদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ২ নভেম্বর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। নতুন দাম ২ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক আঞ্চলিক তুলনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। একই পরিমাণ গ্যাসের দাম ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে ১ হাজার ৪০০ টাকার কম এবং পাকিস্তানে দেড় হাজার টাকার সামান্য কম। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

নভেম্বরের নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় ব্যবধান আরও বেড়েছে। তবে দেশভেদে সিলিন্ডারের ওজন, ভর্তুকি, কর ও বাজারব্যবস্থার পার্থক্য বিবেচনায় তুলনা করতে হয়। এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দেশের অধিকাংশ এলপিজি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে বাজারজাত করে। কিন্তু বড় জাহাজে গ্যাস আমদানি ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গভীর সমুদ্রবন্দরভিত্তিক টার্মিনাল এবং পর্যাপ্ত মজুদ সুবিধা এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে আমদানি, পরিবহন ও খালাসে বাড়তি খরচ হচ্ছে। এসব ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন বলে খাত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য। দাম বাড়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ ভোক্তাদের। ফলে কাগজে-কলমে নির্ধারিত দাম আর বাস্তব বাজারদরের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি অবকাঠামো, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা না গেলে এলপিজির দাম কমানো কঠিন হবে। এতে রান্নার জ্বালানির বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

বাজারের এমন চরম বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার সুফল দেশের ভোক্তারা পাচ্ছেন না, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে বিইআরসিও দেশে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; খুচরা বাজারে সেই নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলনে, বিইআরসি ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তদারকির অভাব এবং আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণেই আজ সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   এলপিজি  দাম  দক্ষিণ এশিয়া  বাংলাদেশ  পেট্রোলিয়াম গ্যাস 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: