প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১০:৪২ এএম
সুচিত্রা সেন ও ঋত্বিক ঘটক। ছবি : সংগৃহীত বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগে সুচিত্রা সেন ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তার অভিনয়, সৌন্দর্য ও তারকাখ্যাতিতে মুগ্ধ ছিলেন অসংখ্য দর্শক। সাফল্য, অর্থ কিংবা জনপ্রিয়তা- কোনো কিছুরই অভাব ছিল না তার। তবু একটি আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল মহানায়িকার। কিংবদন্তি নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের কোনো ছবিতে অভিনয় করা হয়নি তার। অথচ সহ-অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী ও মাধবী মুখোপাধ্যায় ঋত্বিকের কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরিচিতি।
সুচিত্রা সেন ও ঋত্বিক ঘটকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ ছিল না। তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বৈরিতার কথাও জানা যায়নি। তারপরও কেন এই দুই কিংবদন্তির একসঙ্গে কাজ করা হয়নি, তা নিয়ে টালিউডে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করতেন, সুচিত্রার তারকাখ্যাতি, গ্ল্যামার ও আভিজাত্যের সঙ্গে ঋত্বিকের চলচ্চিত্রের ধরন মেলে না। কারণ, ঋত্বিকের ছবিতে গুরুত্ব পেত সাধারণ মানুষের জীবন ও সামাজিক বাস্তবতা।
তবে তাদের একসঙ্গে কাজ করার একটি উদ্যোগের কথাও শোনা যায়। তৎকালীন একটি বিনোদন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রাতে সুচিত্রা সেন হঠাৎ ফোন করে ঋত্বিক ঘটককে নিজের বাড়িতে যেতে বলেন। জরুরি প্রয়োজনে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। মহানায়িকার ফোন পেয়ে সেদিন রাতেই নতুন একটি চিত্রনাট্য নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন ঋত্বিক।
ছবিটির নাম ঠিক করা হয়েছিল ‘রঙের গোলাম’। ঋত্বিকের মুখে চিত্রনাট্য শোনার পর একবাক্যে অভিনয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। দুই কিংবদন্তির একসঙ্গে কাজ করার খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও তৈরি হয়েছিল আগ্রহ। এমনকি ছবিটির প্রাথমিক শুটিং শুরু হয়েছিল বলেও জানা যায়, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। শুটিংয়ের ফুটেজ বা সেলুলয়েডের প্রিন্টও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুচিত্রাকে নিয়ে ছবি না করার পেছনে আরেকটি কথাও প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায়, ঋত্বিক একবার সুচিত্রাকে বলেছিলেন, ‘তুমি মহানায়িকা, তোমার গ্ল্যামারের ছটা আমার ছবির জন্য নয়।’ এমন মন্তব্যে সুচিত্রা কষ্ট পেলেও তাদের বন্ধুত্বে এর প্রভাব পড়েনি বলে জানা যায়।
সব মিলিয়ে, ঋত্বিক ঘটক ও সুচিত্রা সেনের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদের এই অসম্পূর্ণ জুটি আজও রয়ে গেছে এক অপূর্ণ অধ্যায় হয়ে।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা
সময়ের আলো/মহু