প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১১:২৫ এএম
ঋত্বিক ঘটক। ছবি : সংগৃহীত লেখক নবারুণ ভট্টাচার্য বলেছিলেন- ‘ঋত্বিক ইজ আ গ্রেট মাস্টার অব ওয়ার্ল্ড সিনেমা। ভারতের সিনেমায় যা কিছু হয়েছে, ঋত্বিক ঘটক তার থেকে অন্তত দশ বছর এগিয়ে ছিলেন’। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের শিল্পসত্তার স্বীকৃতি এভাবেই দিয়েছিলেন নবারুণ ভট্টাচার্য।
১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ঋত্বিক কুমার ঘটক। ডাকনাম ছিল ‘ভবা’। ময়মনসিংহে বিদ্যালয়জীবন এবং রাজশাহীর পদ্মা নদীর স্মৃতি তার বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। মানুষের বেদনা, নদী ও দেশভাগের যন্ত্রণা পরবর্তী সময়ে তার চলচ্চিত্রেও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ঋত্বিকের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা তাকে তাড়িয়ে বেড়াত। নিজের দেশে ফিরতে পাসপোর্ট-ভিসার প্রয়োজন হওয়াকে তিনি মায়ের কোলে যেতে অনুমতি নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসেন। তখন যুদ্ধের ক্ষত ও স্বজন হারানোর বেদনায় বিধ্বস্ত পরিবেশ তাকে নাড়া দেয়।
বাংলাদেশ সফরের সময় বোন প্রতীতি দেবীর কাছ থেকে অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের অর্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপি পান ঋত্বিক। সেই পাণ্ডুলিপি অবলম্বনেই পরে নির্মাণ করেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্র। তার এই চলচ্চিত্রে নদী, মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিচ্ছিন্নতা ও হারানোর বেদনা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
ঋত্বিক ঘটকের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে দেশভাগের যন্ত্রণা, মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, প্রতিরোধ ও সামাজিক বাস্তবতা উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা ও নির্মাণশৈলীর কারণে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
আজ ঋত্বিক ঘটকের ১০১তম জন্মবার্ষিকী। মৃত্যুর বহু বছর পরও তার চলচ্চিত্র ও শিল্পচিন্তা দর্শক-সমালোচকদের কাছে সমানভাবে আলোচিত। নবারুণ ভট্টাচার্যের ভাষায়, ভারতীয় সিনেমার চেয়ে এক দশক এগিয়ে থাকা এই নির্মাতা বিশ্ব চলচ্চিত্রেও রেখে গেছেন অনন্য ছাপ।
সময়ের আলো/মহু