কাচের টুকরো রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন, সরি

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরো রেখেই সেলাই করে বাড়ি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে

2026-11-04T17:52:12+00:00
2026-11-04T17:52:34+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
কাচের টুকরো রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন, সরি
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম  আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ৫:৫২ পিএম
সাইদার মিয়ার হাত থেকে ৩৫ দিন পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কাচের টুকরো অপসারণ করেছেন অন্য চিকিৎসক। ছবি : সময়ের আলো
হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরো রেখেই সেলাই করে বাড়ি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে ভাঙা কাচে আহত ব্যক্তির হাত থেকে ৩৫ দিন পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কাচের টুকরো অপসারণ করেছেন অন্য চিকিৎসক। গত ৩০ অক্টোবর সেবা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে কাচের টুকরো দুটি বের করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে ঘটনাটিকে ভুলবশত হয়েছে উল্লেখ করে ‘সরি’ বলেছেন চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। 

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। দরিদ্র ও ভূমিহীন এই ব্যক্তি অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাচে আঘাত পান তিনি। এতে তার বাম হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। হাতের ভেতরে ঢুকে যায় কাচের টুকরো।

আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সাইদারের অভিযোগ, সেখানে তাকে ভর্তি না করে শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা জানানো হয়। পরে হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে ভেতরে কাচ রেখেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাতের ভেতরে কাচের টুকরো নিয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটান সাইদার। ক্ষত না শুকানোয় পরে সেবা ক্লিনিকে চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি রায়ের শরণাপন্ন হন তিনি। এক্স-রে পরীক্ষায় হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরো ধরা পড়ে। পরে গত ৩০ অক্টোবর অস্ত্রোপচার করে সেগুলো অপসারণ করা হয়। দুর্ঘটনার দিন থেকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত তাকে ৩৫ দিন কাচের টুকরো নিয়ে থাকতে হয়েছে।

সাইদার মিয়া বলেন, বিদ্যুতের শক খেয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে গ্লাসে আঘাত পাই। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন আমাকে চিলমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনোরকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে গ্লাস রেখেই ফেরত পাঠানো হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করে দেখি, ভেতরে দুটি কাচের টুকরো রয়েছে। এরপর অপারেশন করে সেগুলো বের করা হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার অত্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষ। সেদিন তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও কাচের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা একটু মানবিক হলে এবং সঠিকভাবে ড্রেসিং বা এক্স-রে করালে তাকে এক মাস ধরে এমন অমানবিক কষ্ট সইতে হত না। হাসপাতালের এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গরিব মানুষ এমন অবহেলার শিকার না হন।

চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য সরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   কুড়িগ্রাম  চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  কাচের টুকরো রেখেই সেলাই  চিকিৎসক বললেন  সরি 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: