প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
আবু মোকারম। ছবি : সংগৃহীতগাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোনারগাঁয়ে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন এসআরবি-১১-এর সদস্যরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর বরকল গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে তিনি কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগারে সংঘটিত দাঙ্গা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্য বন্দিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে যান।
এসআরবি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ আগস্ট সকালে বন্দিরা সংঘবদ্ধ হয়ে কারাগারে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কারারক্ষীদের জিম্মি করেন। পরে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে।
কারাগার থেকে পালানোর পর আবু মোকারম গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় করা এ মামলায় আবু মোকারম ছিলেন এক নম্বর আসামি। পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানখেতে ফেলে রাখেন।
মামলার বিচার শেষে ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।
সময়ের আলো/জোই