প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ পিএম
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীতগাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির আন্দোলন চলাকালে নিহত গার্মেন্টস কর্মী তৌফিক হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
তিনি ওই গ্রামের মৃত তবি খাঁর পুত্র।
ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পরে পরিবারের অভাব দূর করতে ঢাকায় পাড়ি জমান তৌফিক হাসান। পবিবারের হাল ধরতে যোগ দেন পোশাক তৈরির কারখানায়। সম্প্রতি দানা বেঁধে ওঠা গার্মেন্টস কারখানায় বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।
গত সোমবার দুপুরের খাবার খেয়ে কাজে যোগদানের জন্য রাস্তায় বেড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিছিল মোবাইল ফোনে ভিডিও করার অভিযোগে অপর একটি গার্মেন্টস কোম্পানির সামনে কিছু দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। এতে তিনি মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সংবাদ পেয়ে তার ভাই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহত তৌফিক হাসানের পরিবারের দাবি, তৌফিকের ভিডিও করার মতো কোনো স্মার্টফোন ছিল না। তবুও সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তার স্ত্রী, শিশুপুত্র ও বৃদ্ধা মা পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে তারা জানান। সেই সাথে ঘাতকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।
তৌফিকের মৃত্যুর সংবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সময়ের আলো/এনএন