প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি : সংগৃহীতসাতক্ষীরায় স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দল্লাহ আল মামুন স্থানীয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক ও দেবহাটা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল, আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদল্লাহ আল মামুন ও ভুক্তভোগীর সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (মৌসুমি) আসামি করা হয়। মামলায় আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী মৌসুমিকে তালাক দেন সাহেব আলী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মৌসুমির যোগাযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও ও ছবি আগে থেকেই সংগ্রহে রেখেছিলেন তার সাবেক স্ত্রী। সেই ভিডিও গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। এর পর গত ২০ অক্টোবর আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও আসামিরা ব্লাকমেইল অব্যাহত রাখেন। পরে গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
বাদী ও সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী জানান, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির উদ্দেশ্যে এই অপরাধ করা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিজিটাল প্রমাণসহ সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার প্রধান ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই