প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ৯:১৯ পিএম
হাজী শামসুল হক। ছবি : সময়ের আলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধ শামসুল হকের (৯৫) ঠাঁই হয়েছে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লার ঘরে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে আজিজুল হক তার বৃদ্ধ বাবা শামসুল হককে তার ঘরে তুলে নেয়।
শামসুল হক গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বৃদ্ধ শামসুল হকের ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাদের বাবার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সাইফ-উল-আরেফীনের নির্দেশের পর বৃদ্ধ শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার বাবার দায়িত্ব নিতে রাজি হন।
জানা গেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুটি ছেলে ও চারটি মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাস চালকের সহকারী।
অন্যদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত। গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন বাকি জমিজমা সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে এই বৃদ্ধের কোনো সন্তানই খোঁজ খবর তেমন রাখছে না। শামসুল হক মোল্লা গত কয়েকদিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে আসলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছে নিচে রেখে দেয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। তারপরে আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারণে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।
শামসুল হকের মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছে। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করবো?
এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে গেলে তার বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার বাবাকে ঘরে নিয়েছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা আমার কাছে থাকবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, শামসুল হক মোল্লার জমি জমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছেন না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতেন তাহলে এমন হতো না।
সময়ের আলো/জোই