প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ এএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ৬:৪৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত এক টেস্টের ব্যবধানেই দুদলের মানসিক অবস্থায় যেন দুই মেরুর ছবি। মিরপুরে বড় হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা, স্পিনারদের ছন্দহীনতা আর ফিল্ডিংয়ের ভুল— সবমিলে সিলেট টেস্টের আগে দুশ্চিন্তার শেষ নেই স্বাগতিক শিবিরে। সেই উদ্বেগের বড় অংশজুড়ে আছেন তাইজুল ইসলামও। অন্যদিকে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন স্যামি অনেকটাই নির্ভার। তবে সিলেটের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হতে পারছেন না তিনিও।
প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও শুকায়নি বাংলাদেশের। এর মধ্যে নতুন ধাক্কা মুমিনুল হকের ছিটকে যাওয়া। মিরপুরে মাথায় আঘাত পাওয়ায় কনকাশন নিয়মের কারণে সিলেট টেস্টে খেলতে পারছেন না তিনি। তার জায়গায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন অমিত হাসান। তবে অমিতের একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বরে কে ব্যাট করবেন, তা নিয়েও ছিল কৌতূহল। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই বছরেরও বেশি সময় পর তিন নম্বরে ব্যাট করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সিলেটেও তাকে একই পজিশনে দেখা যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিমন্স।
চোট কাটিয়ে মুশফিকুর রহিমের ফেরা নিশ্চিত হলে মিডল অর্ডারে জায়গা ধরে রাখার লড়াইয়ে পড়তে পারেন তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী। দুজনের মধ্যে একজনকে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। প্রথম টেস্টে দৃষ্টিকটু শট খেলে আউট হওয়া হৃদয় অবশ্য একাদশে টিকে থাকার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিরপুর টেস্টে ১৩০ রান খরচ করে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র দুটি উইকেট পেয়েছিলেন দেশের অন্যতম সফল এই বাঁহাতি স্পিনার। সবশেষ চার টেস্টে তার শিকার মোটে পাঁচ উইকেট।
সিলেটের উইকেটে সাধারণত পেসাররা বাড়তি সুবিধা পান। তাই তাইজুলকে বাইরে রেখে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামার ভাবনাও রয়েছে বাংলাদেশের।
অন্যদিকে সিলেটের উইকেট নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। অতীত রেকর্ডে এই মাঠ ব্যাটারদের পক্ষে থাকলেও এবার উইকেটে ঘাসের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে তার। তাই ম্যাচের দিন মাঠ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উইকেট বুঝে নেওয়ার পরই একাদশ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।
স্যামির ভাষ্যে, ‘এখানকার (সিলেট) অতীত রেকর্ড দেখলে মনে হয়, এটি ব্যাটারদের জন্য ভালো একটি মাঠ। এখানে ব্যাটাররা রান করলে তার যথাযথ মূল্য পায়। উইকেটে ঘাসের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে। তবে যখন মাঠ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে উইকেট বুঝিয়ে দেবে, তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে