প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। ছবি : সময়ের আলোপ্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে খুলনায় আগমন উপলক্ষে নগরীজুড়ে নজিরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক ও মোড়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সার্বিক টহল ব্যবস্থা। সকালে নগরীর রাস্তাগুলোতে অন্যান্য দিনের তুলনায় সাধারণ যানবাহনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের চারপাশের উঁচু ভবনগুলোতেও পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও স্নাইপার মোতায়েন দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সার্কিট হাউস ও জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ওই এলাকায় প্রবেশ করতে সবাইকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হচ্ছে। বেলা ১১টার পর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ শাখা থেকে ইস্যুকৃত বিশেষ পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ। আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিজস্ব পরিচয়পত্র দেখিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম জলিল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কিছুটা দূরে শিশু হাসপাতালের সামনের মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে আইনজীবী সমিতিতে পৌঁছাতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এটুকু সাময়িক কষ্ট মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ভাষণ শোনার বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে নগরীর ডাকবাংলা মোড়ের পাশে ঘড়ি মঞ্জিলের সামনে বিশাল মঞ্চ ও সাউন্ড সিস্টেম নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে প্রিয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্য শুনতে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা জড়ো হতে শুরু করেছেন।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সড়কপথে মোংলা থেকে বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে খুলনা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছাবে। সেখানে তিনি বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।
এরপর বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা ঘোষণা করবেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ও তার দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শুনতে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে অপেক্ষা করছেন।
সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে রাজধানীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই