অভিনেত্রী পরীমনি । ছবি : সংগৃহীত ঢালিউডে আলোচিত ও সমালোচিত নামগুলোর একটি পরীমনি। প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ছোটবেলা থেকেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একসময় জায়গা করে নেন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে। অভিনয় দিয়ে আলোচনায় আসার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনা, প্রেম, বিয়ে ও বিতর্কের কারণে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম পরীমনির। শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। পড়াশোনায়ও ভালো ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিজীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাকে এগোতে হয়েছে। শৈশবেই মাকে হারান তিনি। পরে বাবার সঙ্গে সাভারে বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সালের দিকে বাবার মৃত্যুর পর তার জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পরিবারের সঙ্গে বরিশালে নানা বাড়িতেও থাকতেন পরীমনি। ব্যক্তিজীবনের সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে একাধিক বিয়ে, প্রেমের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের ঘটনা।
নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১১ সালের দিকে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শেখা শুরু করেন পরীমনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’সহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পরে ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন।
২০১৪ সালের দিকে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার পরিচয় বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় বড় পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০১৫ সালে নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তবে ছবিটি মুক্তি নিয়ে জটিলতায় পড়ে। একই বছর শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন জায়েদ খান।
চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগেই একসঙ্গে ১৯টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ঢালিউডে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন পরীমনি। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক বিয়ের ছবি, কাবিননামা ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত নথি ছড়িয়ে পড়ে। এসব নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার অতীত সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৭ সালে সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে পরীমনির প্রেমের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। তাদের বিয়েও হয়েছিল। একসঙ্গে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যাওয়ার ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তারা। তবে প্রায় দুই বছর পর ২০১৯ সালে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।
এরপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে অভিনেতা ও পরিচালক কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করেন পরীমনি। তাদের বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন টাকা। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।
এ ছাড়া চলচ্চিত্র প্রযোজক আবদুল আজিজের সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তার উপহার হিসেবে বিএমডব্লিউ গাড়ি পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরীমনির যোগাযোগ নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়। এসব সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও অভিনয়জগতে নিজের উপস্থিতি ধরে রেখেছেন তিনি।
সময়ের আলো/এসকে