প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ১১:৫০ পিএম
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ শেষে ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা । ছবি : সংগৃহীত প্রতিশোধ পূরণ হলো ভারতের। ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকার মাঠে পাকিস্তানকে হারাল দলটি। গতকাল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচটি ৩-২ গোলে জেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২০০৩ সালে সবশেষ ঢাকার মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দুদল। সেবার রাসুলের গোলে ১-০ ব্যবধানে ভারতকে হারায় পাকিস্তান।
সাফের ১৫তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের মুখোমুখি হয়। ২৩ বছর আগেও উদ্বোধনী ম্যাচেই দুই দল মাঠে নেমেছিল। চতুর্থবারের মতো সাফের আয়োজক হয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৩ ও চলমান সাফে ভারত-পাকিস্তান খেললেও ২০০৯ এবং ২০১৮ সালে দুদল টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও পরস্পরের দেখা হয়নি।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত। পাকিস্তান অবশ্য প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিল। পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দলটি। এই পেনাল্টিই শেষ পর্যন্ত আক্ষেপে রূপ নিয়ে দলটি। কারণ ম্যাচের একেবারের অন্তিম মুহূর্তে দুই গোল পরিশোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। শুরুর পেনাল্টি গোলে রূপ দিতে পারলেও ম্যাচটি ড্রয়েও নিষ্পত্তির সুযোগ থাকত।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে কাল ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভারত লিড নেয়। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশে বল বাড়ান। তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান। ছয় মিনিট পর পাকিস্তানি ডিফেন্ডারদের মাঝে দারুণ দক্ষতায় সুহাইল আহমেদ ভাট পুনরায় গোল করেন। ৩০ মিনিটে ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
চার মিনিট পর পাকিস্তান পেনাল্টি পায়। শায়ক দোস্তর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এই মিস করায় পাকিস্তান গোল না করেই প্রথমার্ধে ড্রেসিংরুমে ফেরে। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি মিসই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে পাকিস্তান। রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। ওই চার মিনিটের মধ্যে পাকিস্তান দুই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন।
৯১ মিনিটে নাজিব উল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করেন। দুই মিনিট পরই বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে আলমগীর গাজী আরেকটি গোল করেন। পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে খেলায় ফিরে পেনাল্টি মিসের আফসোস পুড়ছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই দুই দেশের সমর্থকদের বাড়তি আগ্রহ। রাজনৈতিক বৈরিতা আর ফুটবল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিলিয়ে এ লড়াই ঘিরে দর্শকদের কৌতূহলও থাকে তুঙ্গে। অথচ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই চেনা উত্তাপের দেখা মেলেনি। ২২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দুই হাজার দর্শক।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। গতকাল অবশ্য দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে সৌহার্দতা ছিল। খেলার পর দুই দলের ফুটবলাররা করমর্দন করেছেন। কোনো দলের ফুটবলার মাঠে আহত হলে অন্য দলের ফুটবলাররা এগিয়ে গেছেন সহায়তায়।
মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে ভারতের আধিপত্য আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দল এ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছে ২৬ বার। এর মধ্যে ভারতের জয় ১৭টি, পাকিস্তানের ২টি। বাকি ৭ ম্যাচ হয়েছে ড্র।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসকে