প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পিএম আপডেট: ০৬.১১.২০২৬ ২:০১ পিএম
তেহরানে এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী একটি জ্বলন্ত বিলবোর্ডের সামনে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে উল্লাস করছেন দেশটির নাগরিকেরা। বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছবি রয়েছে। ছবি : এএফপি কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এর বিস্তারিত বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটের পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও বিস্তৃত পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
এরপর লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সেখান থেকে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ