৯ টাকার ফুলকপি বাজারে ৪০, লোকসানে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

সারাদেশ

মাঠে উৎপাদিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি কৃষকের কাছ থেকে কিনছেন পাইকাররা। পরে সেই সবজি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি

2026-11-06T14:15:40+00:00
2026-11-06T15:08:50+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
৯ টাকার ফুলকপি বাজারে ৪০, লোকসানে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ পিএম  আপডেট: ০৬.১১.২০২৬ ৩:০৮ পিএম
ফুলকপি ও কৃষকের কাছ থেকে কিনছেন পাইকার। ছবি : সময়ের আলো
মাঠে উৎপাদিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি কৃষকের কাছ থেকে কিনছেন পাইকাররা। পরে সেই সবজি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। অথচ উৎপাদন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আগাম কপি তোলার মৌসুম চলছে। ফলন ভালো হলেও পাইকারি বাজারে ৪৩ কেজির এক মণ কপির দাম মিলছে মাত্র ৪০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৯ টাকা ৩০ পয়সা। অথচ কৃষকদের দাবি, খুচরা বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক মনসুর আলী এবার দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে সবজি বিক্রি করে তার আয় ৮০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মনসুর আলী বলেন, ‘আমরা মাঠে ফসল ফলাই, কিন্তু দাম নির্ধারণের সময় আমাদের কোনো হাত থাকে না। মণপ্রতি ৪০০ টাকা পেলে শ্রমিক খরচই ওঠে না।’


একই এলাকার কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার চারা রোপণ করতে হয়। শুধু চারা কেনার পেছনেই ব্যয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এরপর পাঁচ দফায় সার প্রয়োগ, চারবার নিড়ানি এবং অন্তত ১০ বার সেচ দিতে হয়। এর বাইরে রোগবালাই দমনে বাড়তি খরচ তো রয়েছেই।

কৃষকদের মতে, কপির দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল বাজারজাত করার দুর্বল ব্যবস্থাপনাও তাদের সংকট বাড়িয়ে তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প না থাকায় মৌসুমে একসঙ্গে উৎপাদিত সবজি দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেলেও ভালো দামের আশায় ফসল ধরে রাখার সুযোগ থাকে না।

চাষিদের দাবি, উৎপাদন খরচ সামাল দিতে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি সবজির দাম অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে লোকসানের চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় দাম কমেছে। তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং শীত বাড়তে শুরু করলে সবজির দাম বাড়তে পারে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   লোকসান  ঠাকুরগাঁও  কপি চাষি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: