ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ছবি : আনাদোলু ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ‘ডন অব ইয়েমেন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’ নামের এই অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪৪০ জন হুতি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল নুজাইলি।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত হুতি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থান ও স্থাপনা লক্ষ্য করে মোট ১ হাজার ২৯৮টি হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় ৪৪০ জন হুতি যোদ্ধা ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। হুথিদের অবস্থান, সমাবেশস্থল, শক্তিশালীকরণ ইউনিট, সামরিক যান এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে হুথিদের ১৩২টি সামরিক যান, সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্নেল নুজাইলি।
কয়েকটি এলাকায় সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহযোগিতায় সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের সানামাত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হুথিদের চলাচল ও নতুন করে আসা সামরিক শক্তিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকটি এলাকায় এখনো লড়াই চলছে।
আল-জউফ প্রদেশে পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলোতে স্থলমাইন ও পেতে রাখা বিস্ফোরক অপসারণের কাজ করছে সেনাবাহিনীর সামরিক প্রকৌশল ইউনিট। এসব এলাকা নিরাপদ করা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতেই এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় হুতিদের অবস্থান, সামরিক যান এবং গোলাবর্ষণের কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী।
অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সেনাবাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন মুখপাত্র।
দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র
২০১৪ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। পরের বছর থেকে সৌদি আরবের সহায়তায় দখল করা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে সামরিক তৎপরতা শুরু করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অধীন সেনাবাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত চললেও সামরিক অগ্রগতি ছিল তুলনামূলক ধীর।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘাত আবারও বেড়ে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ