অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যানভা। সংগৃহীত ছবি প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যানভা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রভাব এবং ব্যবসায় এআই যুক্ত করার বাড়তি ব্যয়ের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যানভার মোট কর্মীর প্রায় ২২ শতাংশ বা ১ হাজার ২৭১ জন চাকরি হারাচ্ছেন কিংবা তাদের কর্মস্থল পরিবর্তনের মুখে পড়ছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় ক্যানভার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেলানি পারকিন্স বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই কোম্পানিটির সবচেয়ে কঠিন সময়। কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তবে ব্যবসার কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, কিছু কর্মীর দায়িত্ব ও কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি কয়েকজনকে কোম্পানির নির্ধারিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বদলি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে অনেক সহকর্মীকে বিদায় জানাতে হচ্ছে, যারা ক্যানভাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
পারকিন্স আরও জানান, এক দশকের মধ্যে এই প্রথম ক্যানভার প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। বর্তমানে ৩৭টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী থাকলেও অধিকাংশ পণ্য উন্নয়ন দলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী বছর থেকে দূরবর্তী ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে কাজ করা কর্মীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
এআইয়ের প্রভাবে কমেছে কোম্পানির মূল্যায়ন
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং নিজেদের প্ল্যাটফর্মে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে ক্যানভা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির বাজারমূল্যেও।
চলতি বছরের শুরুতে ক্যানভার দুই প্রধান বিনিয়োগকারী ব্ল্যাকবার্ড ভেঞ্চার্স ও এয়ারট্রি প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন কমিয়ে দেয়।
গত বছরের শেষ দিকে ক্যানভার আনুমানিক মূল্যায়ন ছিল ৬ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার। পরে তা কমিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে নির্ধারণ করা হয়।
নতুন পণ্য তৈরি ও বাজারে আনার ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তিসংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্যানভা নিজেও অভ্যন্তরীণভাবে কোম্পানিটির মূল্যায়ন কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেলানি পারকিন্সের মতে, নতুন প্রযুক্তির কারণে মানুষের সৃজনশীলতার ধরন, কাজ করার পদ্ধতি এবং পণ্যের প্রতি প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন আসছে।
যেভাবে যাত্রা শুরু ক্যানভার
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে নিজের প্রথম ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন মেলানি পারকিন্স। পরে ২০১৩ সালে তিনি ক্যানভা প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা না থাকলেও যেন যে কেউ সহজে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন তৈরি করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
বিয়ের আমন্ত্রণপত্র, পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রাফিকস থেকে শুরু করে পেশাদার মানের উপস্থাপনা তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের টেমপ্লেট ও সহজে ব্যবহারযোগ্য টুল সরবরাহ করে ক্যানভা। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এআই প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বাড়তি পরিচালন ব্যয় এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় এবার বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ