প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ ছাড়েন তারা। ছবি : সংগৃহীতঅধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে নীলক্ষেতে কলেজের সামনের দুই পাশের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আগামী কার্যদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ ছাড়েন তারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর একটার পর সড়ক থেকে অবরোধ তুলে শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ৯টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে নির্ধারিত একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা চলার কারণে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা সড়কে অবস্থান নেন। এতে কলেজের সামনের দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী চৈতি সাহানা বলেন, আগামী দুই দিন অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই দুই দিনের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। সোমবার অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু হলে আমাদের দাবিগুলো মেনে দিতে হবে অন্যথায় আমরা আমাদের কর্মসূচি চালু রাখবো।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রথম দাবি, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ। পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। দ্বিতীয় দাবিতে মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চান তারা। একই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানানোর দাবি করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
এদিকে আজকের আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন বলেন, কিছু শিক্ষার্থী কলেজের সামনের সড়ক আটকে রেখেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
গত রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এ সময় কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়নি।
আন্দোলনের সূত্রপাত আবাসিক হলের দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের বেশি অডিটোরিয়ামে বিদায় অনুষ্ঠান করায় দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ। পরে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে বিদ্যুৎ ও এসি বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা চাওয়া হয়।
তবে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/কেএইচও