প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ এএম
সকাল থেকে অধ্যক্ষকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাতেও আন্দোলন চালিয়ে যান ছাত্রীরা। ছবি : সংগৃহীতরাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর মধ্যরাতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাতেও আন্দোলন চালিয়ে যান ছাত্রীরা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, একটি বিদায় অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের পর অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ। পরে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।
শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’
তবে অধ্যক্ষের দাবি, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়াম ব্যবহার করেছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল এবং বিদ্যুতের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ওরা আমার কাছে মাফ চেয়েছে। আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে নাই, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা লংটাইম বিদ্যুৎ অপচয় করছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নিব। এই জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে। পরে ছাত্রীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ক্যাম্পাসে লাঠিপেটা করলে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
রাত পৌনে একটার দিকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষের পদত্যাগ, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, হামলাকে সমর্থন দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
সময়ের আলো/এমকে