নিজের অর্জনে চেসিকে স্মরণ করতে চান চন্দ্রলাল

হ্লাথোয়াইছা চাক, রাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। স্নাতকোত্তর পরীক্ষার আগে হারিয়েছেন বাবাকেও। প্রত্যন্ত গ্রামের কাদামাটির পথ পেরিয়ে, খরস্রোতা খাল সাঁতরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

2026-11-04T22:27:50+00:00
2026-11-04T22:27:50+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষা
নিজের অর্জনে চেসিকে স্মরণ করতে চান চন্দ্রলাল
হ্লাথোয়াইছা চাক, রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম 
শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন চন্দ্রলাল ত্রিপুরা। ছবি : সংগৃহীত
শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। স্নাতকোত্তর পরীক্ষার আগে হারিয়েছেন বাবাকেও। প্রত্যন্ত গ্রামের কাদামাটির পথ পেরিয়ে, খরস্রোতা খাল সাঁতরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কখনো বই-খাতা পলিথিনে মুড়িয়ে বুকে আগলে খাল পার হয়েছেন। পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। এত প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন চন্দ্রলাল ত্রিপুরা। কিন্তু পুরস্কার হাতে পাওয়ার মুহূর্তে পাশে ছিলেন না তার মা-বাবা। দুজনই চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। সেই শূন্যতার মধ্যেও নিজের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছেন আরেক শিক্ষার্থীর স্মৃতি। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে নিজের ডিনস অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করতে চান তিনি।

চন্দ্রলাল ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতকে ৪-এর মধ্যে ৩.৯৪ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৬৭ শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩.৮৫ বা তার বেশি সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তাদের মনোনীত করা হয়।

পুরস্কার গ্রহণের দিনটি অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতো চন্দ্রলালের কাছেও আনন্দের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের মা-বাবাকে দেখে নিজের মা-বাবার অভাব আরও বেশি করে অনুভব করেন তিনি। যাদের ত্যাগ ও সহযোগিতায় এত দূর আসা, জীবনের এমন অর্জনের দিনে তাদের কাউকেই পাশে পাননি। ছিলেন শুধু বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় যিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে তাকে সহযোগিতা করেছেন।

দাদুর কথায় স্বপ্নের শুরু

চন্দ্রলাল ত্রিপুরার বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত দলদলি পাড়ার একটি ছোট্ট গ্রামে। শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে দাদুর সান্নিধ্যে। ছোটবেলায় দাদুর মুখে প্রায়ই শুনতেন, ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে।’

কথাটির অর্থ তখন পুরোপুরি বুঝতেন না। তবে দাদু বোঝাতেন, মন দিয়ে পড়াশোনা করলে জীবনে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। এমনকি একদিন দেশের বাইরেও যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। দাদুর সেই কথাগুলোই ছোট্ট চন্দ্রলালের মনে স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়।

তবে যে গ্রামে তার বেড়ে ওঠা, সেখানে পড়াশোনার সুযোগ ছিল সীমিত। পাড়ায় ছিল একটি মাত্র ব্র্যাক স্কুল। সেখানেই পড়াশোনার হাতেখড়ি। কিন্তু প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই জীবনে নেমে আসে বড় শোক। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় মারা যান তার মা।

একদিকে সামনে পরীক্ষা, অন্যদিকে ঘরজুড়ে স্বজনদের কান্না। পাশের ঘরে মায়ের মৃত্যুর শোক চলছিল, আর অন্য একটি ঘরে বসে পড়ার চেষ্টা করছিলেন ছোট্ট চন্দ্রলাল। যে বয়সে মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে মেনে নিতে হয় মাকে হারানোর বাস্তবতা।

মাকে হারানোর শোক নিয়েই এগিয়ে চলে তার শিক্ষাজীবন। প্রাথমিকের পড়াশোনা শেষ করে উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় নতুন করে বাধার মুখে পড়েন তিনি। বাড়ির কাছাকাছি কোনো উচ্চবিদ্যালয় ছিল না। প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হতো বিদ্যালয়ে।

তখন এলাকায় পাকা রাস্তা ছিল না। বর্ষাকালে কাদামাটির পথে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ত। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সাদা পোশাক কাদায় নোংরা হয়ে যেত। তবে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল পথের একটি খাল। খালটির ওপর কোনো সেতু ছিল না। বর্ষায় পানির স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার হয়ে উঠত ঝুঁকিপূর্ণ।

বই-খাতা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় সেগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে নিতেন চন্দ্রলাল ও তার সহপাঠীরা। এরপর খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ের পথে এগিয়ে যেতেন। কখনো স্রোত বেশি থাকলে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিতে হতো। তাদের সহায়তার কথা এখনো কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

সময় বদলেছে। সেই খালের ওপর এখন সেতু হয়েছে, কাদামাটির পথের জায়গায় তৈরি হয়েছে পাকা রাস্তা। কিন্তু চন্দ্রলালের স্মৃতিতে রয়ে গেছে প্রতিদিনের সেই সংগ্রাম। পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের কারণে বিদ্যালয়ে তার মাসিক বেতনও মওকুফ করা হয়েছিল। আর্থিক টানাপোড়েনের সংসারে এটিও ছিল বড় স্বস্তি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও কাটেনি অনিশ্চয়তা

উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—দুই জায়গাতেই ভর্তির সুযোগ পান চন্দ্রলাল। শেষ পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে। প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া ছিল বড় অর্জন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও দুশ্চিন্তা কাটেনি। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

এ সময়ে তার পাশে দাঁড়ান পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে বড় ভাই পড়াশোনার খরচসহ নানা প্রয়োজনে সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি পরিজন স্কলারশিপ উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবারের সহযোগিতা, বৃত্তির অর্থ আর নিজের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে থাকেন চন্দ্রলাল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায়ও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। স্নাতকে ৩.৯৪ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম হন। স্নাতকোত্তরেও ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে অর্জন করেন দ্বিতীয় স্থান। কিন্তু উচ্চশিক্ষার শেষ পর্যায়ে এসে আবারও বড় এক শোকের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

স্নাতকোত্তর পরীক্ষার আগে মারা যান তার বাবা। শৈশবে মাকে হারানোর পর বাবাই ছিলেন জীবনের অন্যতম ভরসা। সেই মানুষটিকেও হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে পড়েন তিনি। একদিকে বাবার মৃত্যুর বেদনা, অন্যদিকে সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবু থেমে যাননি চন্দ্রলাল। পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও নিজের স্বপ্নের কথা ভেবে পড়াশোনা চালিয়ে যান।

যে মা-বাবা সন্তানের পড়াশোনার জন্য নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছেন, তারা কেউই ছেলের উচ্চশিক্ষা শেষ করা কিংবা কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আনন্দ দেখে যেতে পারেননি। স্নাতকোত্তর শেষ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন চন্দ্রলাল। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় যে শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে কাদামাটি আর খালের বাধা পেরোতে হতো, এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন।

নিজের অর্জনে মনে পড়ল চেসির কথা

ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের দিন অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের মা-বাবাকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চন্দ্রলাল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হাতে পেয়েও মা-বাবাকে পাশে না পাওয়ার বেদনা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হওয়ায় ছোট মাকেও অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে পারেননি। তবে পাশে ছিলেন বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যিনি নানা সংকটে সহযোগিতা করেছেন, নিজের সাফল্যের দিনে তাকে পাশে পাওয়া চন্দ্রলালের কাছে ছিল বিশেষ প্রাপ্তি।

এমন আবেগঘন মুহূর্তেই মনে পড়ে যায় চেসি ত্রিপুরার কথা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন চেসি। এক সহপাঠীর বাসায় পূজার দাওয়াতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।

রাজশাহীর বাগমারা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার সময় দুর্গাপুর এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের বহনকারী অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান চেসি। প্রথমে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আগেই থেমে যায় তার জীবন।

চন্দ্রলালের নিজের জীবনেও প্রিয়জন হারানোর বেদনা রয়েছে। শৈশবে মা, উচ্চশিক্ষার শেষপর্যায়ে বাবা—দুজনকেই হারিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে চেসির অকালমৃত্যুর স্মৃতি তাকে স্পর্শ করেছে ভিন্নভাবে। তাই নিজের অর্জনের সঙ্গে চেসির স্মৃতিকে জড়িয়ে রাখতে চান তিনি। ডিনস অ্যাওয়ার্ডটি প্রয়াত চেসি ত্রিপুরার স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার ইচ্ছা তার।

চন্দ্রলালের কাছে এই পুরস্কার কেবল ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দাদুর অনুপ্রেরণা, মা-বাবার ত্যাগ, বড় ভাইয়ের সহযোগিতা, প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিকূলতা আর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল দাদুর মুখে শোনা একটি প্রবাদ দিয়ে, সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক দূর এগিয়েছেন তিনি। তবে নিজের অর্জনের আনন্দে ভুলে যাননি এমন এক শিক্ষার্থীকে, যার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হয়নি।

মা-বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো ছেলের এই অর্জনে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন। তাদের সেই আনন্দ দেখার সুযোগ হয়নি চন্দ্রলালের। তবু তাদের স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি। আর নিজের অর্জনের সম্মানটুকু উৎসর্গ করতে চান এমন এক তরুণ শিক্ষার্থীকে, যিনি অসময়েই হারিয়ে গেছেন।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   চেসিকে স্মরণ  চন্দ্রলাল  ডিনস অ্যাওয়ার্ড  রাবি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: