এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণে ৪ দিনে ৫ লাখ আবেদন । ছবি : সংগৃহীতএইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের হিড়িক পড়েছে। বুধবার পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনে বিষয় ও পত্র মিলিয়ে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছে পাঁচ লাখের বেশি খাতা। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে।
যেভাবে করবেন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যেসব বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে দুই পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি জমার বিস্তারিত পদ্ধতি ওয়েবসাইটের ‘হেল্প’ অপশনে পাওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই পদ্ধতিতে আবার আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করে নির্বাচিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় যুক্ত করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর নির্বাচিত বিষয় বাতিলের সুযোগ নেই। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন করতে হবে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই।
এবার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
সময়ের আলো/এসকে