রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির পরও বাণিজ্য ঘাটতি ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজনেস

প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ছে, রফতানি আয়েও প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তবু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব স্বস্তিতে নেই। জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে

2026-11-06T22:53:49+00:00
2026-11-06T22:53:49+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
বিজনেস
দ্বিগুণ ব্যয়ে জ্বালানি আমদানির প্রভাব
রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির পরও বাণিজ্য ঘাটতি ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ছে, রফতানি আয়েও প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তবু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব স্বস্তিতে নেই। জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ও রফতানি আয়ের ব্যবধান দ্রুত বড় হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে চলতি হিসাব থেকে শুরু করে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে। একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি হয়েছে ১৩৩ কোটি ডলার। সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যেও ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ডলারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে পণ্য রফতানি থেকে আয় এসেছে ৮৩৮ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে ঘাটতি বাড়ছে।

বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জ্বালানি আমদানির ব্যয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪২২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ।

জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি এই ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি বাবদ বেশি ডলার খরচ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের শিল্প উৎপাদনে স্থবিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহের সংকট রফতানি খাতের প্রত্যাশিত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একদিকে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে তুলনামূলক ধীরগতিতে।

রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিও সামাল দিতে পারছে না আমদানি ব্যয় বৈদেশিক লেনদেনের চাপের আরেকটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে চলতি হিসাবের পরিসংখ্যানে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে সেই অবস্থান পাল্টে ১৩৩ কোটি ডলারের ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে।

এ সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ১৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি থাকলেও চলতি হিসাবের ঘাটতি এড়ানো যায়নি। সাধারণত রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তা আমদানি ব্যয়সহ বৈদেশিক লেনদেনের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবৃদ্ধি সেই চাপ সামাল দিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াই চলতি হিসাবের ঘাটতির অন্যতম কারণ। রফতানি ও রেমিট্যান্স— দুই খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও আমদানির বিপরীতে ডলারের ব্যয় বেশি হওয়ায় ভারসাম্য রক্ষা করা যাচ্ছে না।

সামগ্রিক লেনদেনের ঘাটতিও বাড়ছে

বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বৈদেশিক খাতের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলেও এতদিন সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বিদেশি অর্থায়নের প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই দেশের সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ডলারে।

অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি আরও বেড়েছে। রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিদেশি অর্থায়নের তুলনামূলক কম প্রবাহের কারণে এ ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয়ে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। এতে সামগ্রিক ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক খাতের চাপ কমাতে আমদানি ব্যয়ের ওপর নজরদারির পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক করা, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 

  বিষয়:   রেমিট্যান্স  প্রবৃদ্ধি  বাণিজ্য ঘাটতি  ৭ বিলিয়ন ডলার 


Advertisement
Loading...
Loading...
বিজনেস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: