প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতন হয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের আমদানি দায় বাবদ ১৬৪ কোটি ডলার পরিশোধ করায় দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ কমে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী আকুর বিল পরিশোধের আগের দিন বুধবার দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক দিনের ব্যবধানে বড় অঙ্কের এই পতনের পেছনে মূল কারণ আকুর আমদানি দায় পরিশোধ। এর আগে গত ৬ জুলাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। ওই সময় বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
একসময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো এই মাইলফলক অতিক্রম করে রিজার্ভ। তবে পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং ডলারের বাজার সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ হিসাবে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ডলারের বাড়তি চাহিদা নতুন করে চাপ তৈরি করছে।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকও আবার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করেছে। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০ কোটি ডলার। এর আগের সপ্তাহে বিক্রি করা হয়েছিল ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের আগস্টের পর দীর্ঘ সময় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি প্রায় বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।
এদিকে ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত তিন কর্মদিবসে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। এর আগে দুই দিন দর ছিল ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। অক্টোবরের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা। মাসের শেষ কর্মদিবসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়।
সরকার পরিবর্তনের পর প্রায় দেড় বছর আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সেই স্থিতিশীলতা ভেঙে ডলারের দাম বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি