প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি : সময়ের আলোদ্বীপকন্যা সন্দ্বীপের উপকূলীয় সুরক্ষা ও ভাঙন রোধে নেওয়া ৫৬২ কোটি টাকার মেগা বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘ স্থবিরতা ও ঠিকাদারদের চরম উদাসীনতার পর অবশেষে বড় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ ফেলে উধাও হয়ে যাওয়ার কারণে পৌনে তিন বছর ধরে প্রকল্পটি মারাত্মক হোঁচট খেয়েছিল। নির্ধারিত মেয়াদের কাছাকাছি সময়ে এসে সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশে আটকে থাকায় অবশেষে আওয়ামী লীগ ঘরানার দুটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৭টি প্যাকেজের কার্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০৫ কোটি টাকার কাজ পাওয়া ‘মেসার্স বিশ্বাস বিল্ডার্স’-এর মালিক নজরুল ইসলাম (দুলাল) ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সামান্য কিছু প্রাথমিক কাজ করেই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখে।
একইভাবে সাইফ পাওয়ার টেকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ই-ইঞ্জিনিয়ারিং’ ১১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চারটি প্যাকেজের কাজ পেয়েও নামেমাত্র অগ্রগতি দেখায়। এছাড়া পটিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার মালিকানাধীন ‘রয়েল এসোসিয়েট’সহ অন্যান্য বিতর্কিত ঠিকাদারদের গাফিলতিতে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বারবার তাগাদা, নোটিশ ও কালো তালিকাভুক্তির ভয় দেখিয়েও ঠিকাদারদের মাঠে ফেরানো যায়নি।
প্রকল্পের এই স্থবিরতা ও সংস্কার প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খ ম জুলফিকার তারেক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না করায় ৭টি প্যাকেজের কাজ বাতিল করে নতুনভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং যেসব ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করেনি বা যাদের অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক, তাদের কাজও পর্যায়ক্রমে বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে।
এদিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২ বিভাগ) ড. তানজির সাইফ আহমেদ জানান, ব্লকের সাইজ যৌক্তিক পর্যায়ে ছোট করায় প্রকল্পে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় হওয়া এই অর্থ দিয়ে রহমতপুর থেকে মুছাপুর পর্যন্ত বাঁধের পরিধি বাড়িয়ে ৮.১৪ কিলোমিটার থেকে ১২.৫০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হবে।
সন্দ্বীপের পোল্ডার নং-৭২-এর আওতায় উপকূলীয় ভাঙন প্রতিরোধ ও দ্বীপবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় একনেকে অনুমোদিত এই মেগা প্রকল্পে বাঁধের ঢাল সুরক্ষা, সিল্ট অ্যাক্সিলারেটর ও নতুন রেগুলেটর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেন্ট্রাল ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের কৃষি উৎপাদন ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিকটোনে উন্নীত হবে এবং প্রায় চার লাখ স্থানীয় বাসিন্দার দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। তাই যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মানসম্মত কাজ শেষ করতে পাউবো সর্বচ্চ চেষ্টা করে যাবে ।
সময়ের আলো/এমকে