প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীতবয়স যখন দেড় বছর, তখন দত্তক পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমিয়েছিলেন সেলিনা গোমেজ। এরপর কেটে গেছে ৪৬ বছর। জন্মভূমির স্মৃতি বলতে তেমন কিছুই মনে নেই তার। তবে পুরোনো কিছু নথিতে পাওয়া নাম ও জন্মস্থানের সূত্র ধরে এবার বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারার মালুমঘাটে জন্ম নেওয়া সেলিনা এখন খুঁজছেন তার জন্মদাতা মা-বাবা ও স্বজনদের।
৪৬ বছর বয়সি সেলিনা বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। জন্মদাতা পরিবারের সন্ধানে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন তিনি। সম্ভাব্য এলাকায় বিতরণ করছেন লিফলেট। তার আশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একদিন খুঁজে পাবেন নিজের পরিবারকে।
সেলিনার ভ্রমণ-সহকারী রাসেল আলম জানান, প্রায় সাত-আট বছর আগে প্রথমবার বাংলাদেশে আসেন সেলিনা। এরপর আরও কয়েকবার এসেছেন। সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন তিনি। পরে এক ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে রাসেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে সেলিনার জন্মদাতা পরিবারের সন্ধানে সহযোগিতা করছেন তিনি।
সেলিনার কাছে থাকা পাসপোর্টসহ ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার সংগ্রহে রয়েছে শৈশবের একটি সাদাকালো ছবি এবং নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সময়কার পাসপোর্টের ফটোকপি। ওই পাসপোর্টে তার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮১ সালের ৭ জুলাই। জাতীয়তা লেখা রয়েছে বাংলাদেশি। পরিবারের সন্ধান পেতে এসব নথিই এখন তার প্রধান অবলম্বন।
সেলিনা গোমেজ বলেন, ‘আমি আমার মা-বাবাকে খুঁজছি। তাদের খুব মিস করি। তাদের মনে করতে পারি না। তবে জানি, আমার মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ এবং বাবার নাম বেনেডি গোমেজ। নেদারল্যান্ডসে আমি একা অনুভব করি। আশা করি, মা-বাবাসহ আমার পরিবারের সন্ধান পাব।’
নিজের জন্ম ও দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সেলিনা বলেন, ‘আমি জেনেছি, আমার জন্ম মালুমঘাটে। দেড় বছর বয়সে এক নারী আমাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে একটি ডাচ পরিবার আমাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে যায়। ওই পরিবারের কাছে আদর-যত্নেই বড় হয়েছি।’
সেলিনার ভ্রমণ-সহকারী রাসেল আলম বলেন, তিনি আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাংলাদেশে থাকবেন। বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। আমরা একসঙ্গে তার পরিবারের সন্ধান চালিয়ে যাব।
সময়ের আলো/টিকে