চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মৃত্যু বেড়েই চলেছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

চট্টগ্রাম মহনগরী ও উপজেলায় কমেনি ডেঙ্গুর প্রকোপ। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১০ মাসে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গেল চারদিনেই

2026-11-08T02:28:58+00:00
2026-11-08T02:28:58+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মৃত্যু বেড়েই চলেছে
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মহনগরী ও উপজেলায় কমেনি ডেঙ্গুর প্রকোপ। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১০ মাসে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গেল চারদিনেই মারা গেছেন তিনজন। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পৌনে আট হাজার ছুঁয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর বৃষ্টির দিনের রোগ নয়। সারা বছরই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকে। বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে আক্রান্ত কম ছিল। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চিকিৎসকরা। বছরের মাঝামাঝি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা শুধু বেড়েছে। সঙ্গে মৃত্যুর পরিসংখ্যানও বড় হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭ এবং জুনে ১২২ আক্রান্ত হয়। এই ছয় মাস আক্রান্তের সংখ্যা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। জুলাইয়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লাফিয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা।

জুলাইয়ে আক্রান্ত হন ৫৩৬ জন, আগস্টে ১ হাজার ২০২, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ এবং অক্টোবরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০৮ জন। নভেম্বরের প্রথম ছয় দিনেই আক্রান্ত সাড়ে তিনশ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৩ হাজার ৫৫৬, বিভিন্ন উপজেলায় ৩ হাজার ৮১ এবং বিভাগের অন্য জেলায় ৭৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪ জন, নগরীর লাগোয়া কর্ণফুলীতে ৩৪৩, বাঁশখালীতে ২৫২, রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯, আনোয়ারায় ১৭৩, সাতকানিয়ায় ১৬৩, পটিয়ায় ১৫১, রাউজানে ১৪৮, হাটহাজারীতে ১১৮, মিরসরাইয়ে ১১২, চন্দনাইশে ১০২, বোয়ালখালীতে ৯৯, লোহাগাড়ায় ৮২, ফটিকছড়িতে ৭৬ এবং সন্দ্বীপে ৪৯ জন আক্রান্ত। ১০ মাসে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৯ জন। যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ২১ জন নারী, ১১ জন শিশু ও সাতজন পুরুষ। বর্তমানে হাসপাতালে নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে অন্তত একশ জন রোগী ভর্তি আছেন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৪৩৩, নারী ২ হাজার ২১১ এবং শিশু ১ হাজার ৭৬২ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ পুরো বছরজুড়ে থাকার আশঙ্কা ছিল। বাস্তবে তাই হয়েছে। এবার বছরের শেষ সময় নভেম্বরেও আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সংক্রমণ অনেক বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অনেক রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। দেরি করার কারণে চিকিৎসায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। তবে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অব্যাহত আছে। চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি হচ্ছে না বলে মনে করছি। 

হটস্পটে কমেনি দাপট
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের দফতর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর আট ওয়ার্ডের ২০ স্পটকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। চিহ্নিত হওয়া এলাকার মধ্যে রয়েছে— নগরীর হালিশহর, কোতোয়ালি, বন্দর, পাহাড়তলী, বায়েজিদ, আকবরশাহ, বাকলিয়া, সদরঘাট, খুলশী, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা। নগরীর বাইরে জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে ১৪ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তালিকায় আছে কর্ণফুলী, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার নাম। 


চসিক কর্মকর্তারা বলছেন, হটস্পটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে বেশি। বিশেষ করে যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে সেখানে জরিমানা করা হয়েছে। তা ছাড়াও এসব স্পটে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও জোরদার ছিল। জেলার বাইরে মফস্বল এলাকার হটস্পটে মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন প্রচেষ্টা চালিয়েছে। 

তবে নগরবাসীর অভিযোগ চসিকের মশক নিধন তৎপরতা খুব বেশি ছিল না। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শামীম আক্তার বলেন, এই আবাসিক এলাকায় বছরের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী তেমন ছিল না। কিন্তু জুলাইয়ের পর থেকে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। চসিক মশক নিধনের কথা বললেও কখনো কোনো কর্মীর তৎপরতা চোখে পড়েনি। 

আক্রান্ত-মৃত্যুর নিউজ সামাজিক মাধ্যমে 
চট্টগ্রাম নগরীর গাইনি চিকিৎসায় পরিচিত মুখ ডা. মাসুমা তাবাসসুম। বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে তিনি চেম্বার করেন। গত সপ্তাহে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে শারিরীক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বেশ কিছু দিন ছিলেন আইসিইউতে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। কয়েক দিন আগে তিনি সুস্থ হয়ে চট্টগ্রামে ফিরে এসেছেন।
 
বৃহস্পতিবার ভোরে বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার যুবক নাজিউর রহমান নাহিদ। ওই দিন ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ইসলামিয়া প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে ছবিসহ নিউজটি ঘুরছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নাহিদের মৃত্যু হয়। ফেসবুকে মৃত্যুর পর লেখা হয় ‘ডেঙ্গুতে মৃত্যু নাহিদের’। ‘কর্মস্থলে পড়ে আছে স্মৃতিমাখা সেই টেবিল ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’। সবার প্রিয়, হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মানুষ নাজিউর রহমান নাহিদ আর ফিরবেন না’।

নাহিদ কর্মরত ছিলেন নগরীর ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানে। তার মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা। ইপিজেডের এফকিউসি ডিপার্টমেন্টের সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তুলে ধরেছেন শোকগাথা।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   চট্টগ্রাম  ডেঙ্গু  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: