জোটে থেকেও এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক জোট ও নির্বাচনি সমঝোতার প্রশ্নে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয়

2026-11-08T03:15:51+00:00
2026-11-08T03:15:51+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
জোটে থেকেও এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি এনসিপির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক জোট ও নির্বাচনি সমঝোতার প্রশ্নে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে। শুধু নির্বাচন নয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও দুই দলের মধ্যে কিছুটা দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। 

১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকটি লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। এর পেছনে রয়েছে, জামায়াত ইসলামী জোটের বাইরে গিয়ে এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। এতে নাখোশ হয়েছেন এনসিপির একাংশ। এর প্রেক্ষিতে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন এনসিপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

দলটির পরিকল্পনা, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়েও নিজেদের প্রার্থী দেওয়া। শতাধিক উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামায়াত মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্র। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতার বদলে এককভাবে নির্বাচন করাই বাস্তবসম্মত।

এনসিপির নেতাদের মধ্যে একটি অংশ মনে করছে, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচনি বাস্তবতা এক নয়। জাতীয় রাজনীতিতে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জরুরি। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত ব্যক্তি পরিচিতি, সাংগঠনিক শক্তি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নিলে এনসিপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হতাশ হতে পারেন, দুর্বল হতে পারে সাংগঠনিক ভিত্তি, কমতে পারে জনপ্রিয়তাও।

অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতা বজায় রাখার পক্ষের নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক এরপর বাস্তবতা বিবেচনায় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই দলের এই ভিন্ন অবস্থান এখন প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দুই দলের প্রার্থী ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক এনসিপি চাইলেও জামায়াত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। এ অবস্থায় জোটের ঐক্য থাকলেও নির্বাচনের মাঠে দুই দলকে আলাদা অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

ঢাকার দুই সিটি নিয়ে মূল বিরোধ : দুই দলের মতপার্থক্যের কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াত ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এনসিপি তাদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারিকে প্রার্থী করেছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির পক্ষ থেকে যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, দুই দল আলাদাভাবে প্রার্থী দিলে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করে আসা দলগুলোর স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বয় না থাকলে রাজনৈতিকভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই সিটিতে সমঝোতার বিষয়ে এনসিপির আগ্রহ ছিল। তবে জামায়াত নিজেদের প্রার্থিতা থেকে সরে আসতে রাজি নয়।


এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবের বক্তব্যেও এ অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার পর স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতা না হওয়ায় শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময় জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সমঝোতা করেছিল। এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলমও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ৩১ অক্টোবর পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে লড়বে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ঘোষিত প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার জন্য তাদের প্রার্থী করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের অবস্থান, সমঝোতা স্থানীয় পর্যায়ে : অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। এসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকে না। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের প্রার্থী নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমে বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে সে ধরনের সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে কখনো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনও হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্র থেকে কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সমঝোতা না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি সমঝোতার দরজা খোলা রাখছে জামায়াত।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   জোট  নির্বাচন  এনসিপি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: